টেট (TET) পাশ না থাকলে কি চাকরি হারাতে হবে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের? এই প্রশ্ন ঘিরে উদ্বেগ বাড়ছে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের বহু প্রাথমিক ও উচ্চ প্রাথমিক শিক্ষক এখন তাকিয়ে রয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আসন্ন শুনানির দিকে। আগামী ১৩ মে এই গুরুত্বপূর্ণ মামলার শুনানি হতে চলেছে দেশের শীর্ষ আদালতে।
গত বছর সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল, সমস্ত প্রাথমিক এবং উচ্চ প্রাথমিক শিক্ষককে টেট উত্তীর্ণ হতে হবে। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, যাঁরা এখনও টেট পাশ করেননি, তাঁদের আগামী দু’বছরের মধ্যে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। অন্যথায় চাকরি ছাড়তে হতে পারে অথবা বাধ্যতামূলক অবসরের পথে যেতে হতে পারে। তবে আদালত একই সঙ্গে জানায়, যাঁদের চাকরির বয়স পাঁচ বছরের বেশি হয়ে গিয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে না। ফলে বহু শিক্ষক কিছুটা স্বস্তি পেলেও, বিপুল সংখ্যক শিক্ষক-শিক্ষিকার মধ্যে এখনও অনিশ্চয়তা রয়ে গিয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টে ফের শুনানি
এই নির্দেশের বিরোধিতা করে সুপ্রিম কোর্টে রিভিউ পিটিশন দাখিল করা হয়। পশ্চিমবঙ্গ-সহ বিভিন্ন রাজ্য সরকার আদালতের কাছে রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন জানিয়েছে। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন প্রাথমিক শিক্ষক সংগঠনও এই মামলায় যুক্ত হয়েছে। আদালত সূত্রে খবর, আগামী ১৩ মে দুপুর ২টোয় এই মামলার শুনানি হবে। প্রথমে বিচারপতিদের চেম্বারে শুনানির সম্ভাবনা থাকলেও পরে মুক্ত আদালতে সাধারণ শুনানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নিখিলবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি (এবিপিটিএ)-র তরফে আবেদন জানানো হয়েছিল যাতে মামলার শুনানি প্রকাশ্য আদালতেই হয়। সেই আবেদনেই সায় দিয়েছেন বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত এবং বিচারপতি মনমোহন।
উদ্বেগে প্রায় এক লক্ষ শিক্ষক
শিক্ষক সংগঠনগুলির দাবি, এই নির্দেশ কার্যকর হলে বহু শিক্ষক চাকরি নিয়ে সমস্যায় পড়তে পারেন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গেই প্রায় এক লক্ষ শিক্ষক-শিক্ষিকাকে নতুন করে টেট পরীক্ষায় বসতে হতে পারে। ফলে আগামী ১৩ মে-র শুনানি ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ বাড়ছে শিক্ষকদের মধ্যে। সুপ্রিম কোর্ট কী নির্দেশ দেয়, তার উপর নির্ভর করছে বহু শিক্ষকের ভবিষ্যৎ।
কী বলছে শিক্ষক সংগঠন?
শিক্ষক সংগঠনগুলির বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে চাকরি করা শিক্ষকদের নতুন করে টেট দিতে বাধ্য করা বাস্তবসম্মত নয়। তাঁদের মতে, শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা এবং দীর্ঘদিনের পরিষেবা বিবেচনা করা উচিত। অন্যদিকে আদালতের পর্যবেক্ষণ, শিক্ষার মান বজায় রাখতে নির্দিষ্ট যোগ্যতা থাকা প্রয়োজন। এখন সব নজর আগামী ১৩ মে-র শুনানির দিকে। ওই দিন সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণই ঠিক করবে, টেট পাশ না থাকা শিক্ষকদের ভবিষ্যৎ কোন দিকে এগোবে।











