গত ১৫ বছর ধরে বাংলায় দুর্নীতি, কালোবাজারি ও সিন্ডিকেট রাজ চলেছে বলে অভিযোগ তুলে ফের তৃণমূল কংগ্রেসকে আক্রমণ করল বিজেপি। সম্প্রতি রাজ্যে সরকার গঠনের পর থেকেই একের পর এক দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আনা হচ্ছে বিজেপির তরফে। এবার বিজেপি ওয়েস্ট বেঙ্গলের অফিসিয়াল সোশ্যাল মিডিয়া পেজ থেকে প্রকাশ করা হল একটি তথাকথিত ‘রেট কার্ড’, যেখানে দাবি করা হয়েছে— টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন সরকারি চাকরি পাইয়ে দেওয়া হতো।
কোন চাকরির জন্য কত টাকা?
বিজেপির প্রকাশ করা পোস্ট অনুযায়ী, বিভিন্ন পদে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট টাকা নেওয়া হতো বলে দাবি করা হয়েছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে—
- পৌরসভার শ্রমিক পদে চাকরির জন্য নেওয়া হতো প্রায় ৪ লক্ষ টাকা
- ড্রাইভার পদে চাকরির জন্য লাগত ৪ লক্ষ টাকা
- সাফাই কর্মী পদে চাকরির জন্যও দাবি করা হয়েছে ৪ লক্ষ টাকা নেওয়া হতো
- গ্রুপ ডি চাকরির জন্য নির্ধারিত ছিল ৪ লক্ষ টাকা
- গ্রুপ সি পদে চাকরি পাইয়ে দিতে নেওয়া হতো ৭ লক্ষ টাকা
- টাইপিস্ট পদে চাকরির জন্যও দাবি করা হয়েছে ৭ লক্ষ টাকা নেওয়া হতো
বিজেপির দাবি, সাধারণ যুবক-যুবতীদের যোগ্যতা ও পরিশ্রমকে উপেক্ষা করে শুধুমাত্র টাকার বিনিময়ে চাকরি বিক্রির একটি চক্র তৈরি হয়েছিল। এমনকি এই তথাকথিত রেট কার্ড ইডির তদন্তের ভিত্তিতে প্রকাশ করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। যদিও এই দাবির স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা হয়নি।
এসএসসি দুর্নীতির প্রসঙ্গও সামনে
বাংলায় চাকরি দুর্নীতি নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। ২০১৬ সালের এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক ও শিক্ষা কর্মীর চাকরি বাতিল হওয়ায় রাজ্যজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি হয়েছিল। দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে গেলেও বহু চাকরিহারা এখনও তাঁদের চাকরি ফিরে পাননি।
সম্প্রতি স্কুল সার্ভিস কমিশনের তরফে কিছু ওএমআর শিট প্রকাশ করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সেখানে সাদা ওএমআর জমা দিয়েও চাকরি পাওয়ার অভিযোগ সামনে এসেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। একইসঙ্গে খুব শীঘ্রই গ্রুপ সি ও গ্রুপ ডি পদে চাকরিহারাদের ওএমআর শিটও প্রকাশ করা হতে পারে বলে খবর। তদন্তে সিবিআই যে হার্ডডিস্ক বাজেয়াপ্ত করেছিল, তার তথ্যের ভিত্তিতেই এই নথি প্রকাশ করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
এই পরিস্থিতিতে চাকরির বিনিময়ে টাকা নেওয়ার অভিযোগ ঘিরে ফের চাপে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। যদিও এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত দলের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি।










