টলিউডে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে পরিচালক ও চিত্রনাট্যকার উৎসব মুখোপাধ্যায়ের রহস্যজনক নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার ঘটনায়। তিন সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এখনও তাঁর কোনও খোঁজ মেলেনি। স্বামীর সন্ধানে মরিয়া হয়ে এবার সংবাদপত্রে নিখোঁজ বিজ্ঞাপন দিলেন তাঁর স্ত্রী মৌপিয়া বন্দ্যোপাধ্যায়। একই সঙ্গে সমাজমাধ্যমে একরাশ ক্ষোভ উগরে দিয়ে একাধিক বিস্ফোরক অভিযোগ সামনে এনেছেন তিনি। দীর্ঘদিনের সাইবার বুলিং-ই কি এই ঘটনার নেপথ্যে, তা নিয়েই উঠছে বড় প্রশ্ন।
কীভাবে নিখোঁজ হলেন উৎসব?
গত ২ এপ্রিল ব্যাঙ্কে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন উৎসব মুখোপাধ্যায়। ‘বরুণবাবুর বন্ধু’ এবং ‘ভবিষ্যতের ভূত’-এর মতো চর্চিত ছবির এই চিত্রনাট্যকার তারপর আর বাড়ি ফেরেননি। ১৮ দিন কেটে গেলেও তাঁর কোনও হদিস মেলেনি। পরিবারের তরফে আনন্দপুর থানায় মিসিং ডায়েরি করা হলেও এখনও পর্যন্ত তদন্তে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি বলে অভিযোগ।
স্ত্রীর বিস্ফোরক অভিযোগ
উৎসবের স্ত্রী মৌপিয়া বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, ২০১৯ সাল থেকেই তাঁর স্বামী ভয়াবহ সাইবার বুলিংয়ের শিকার হচ্ছিলেন। একের পর এক ভুয়ো অ্যাকাউন্ট থেকে নিয়মিত কুরুচিকর আক্রমণ চালানো হতো। তিনি জানান, সোশ্যাল মিডিয়ায় কোনও পোস্ট করলেই ধেয়ে আসত অপমানজনক মন্তব্য। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, উৎসব ধীরে ধীরে নিজেকে গুটিয়ে নিতে বাধ্য হন। এর প্রভাব পড়ে তাঁর ব্যক্তিগত জীবন ও পেশাগত ক্ষেত্রেও।
বিয়ের পর আরও তীব্র হয় আক্রমণ
২০২৪ সালে আলাপের পর বিয়ে করেন উৎসব ও মৌপিয়া। কিন্তু তার পর থেকেই আক্রমণের মাত্রা আরও বেড়ে যায় বলে অভিযোগ। তাঁদের বিয়ের ছবির নিচে অশালীন মন্তব্য করা থেকে শুরু করে উৎসবের নামে ভুয়ো ওয়েবসাইট তৈরি করে কুৎসা রটানো হচ্ছিল। মৌপিয়ার দাবি, তাঁর নামেও মিথ্যা অপপ্রচার চালানো হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
রহস্য আরও ঘনীভূত
মৌপিয়ার কথায়, উৎসব নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই হঠাৎ করে সমস্ত সাইবার আক্রমণ বন্ধ হয়ে যায়। এই ঘটনাকে তিনি অত্যন্ত রহস্যজনক বলে মনে করছেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, পুলিশ পুরো বিষয়টি জানলেও তদন্তে কতটা গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে তা স্পষ্ট নয়। শারীরিক ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
একজন প্রতিভাবান চিত্রনাট্যকারের এভাবে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে যাওয়া এবং তাঁর স্ত্রীর গুরুতর অভিযোগ ঘিরে টলিউডে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। উৎসব কি মানসিক চাপে আত্মগোপন করেছেন, নাকি এর পিছনে রয়েছে বড় কোনও ষড়যন্ত্র— সেই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে উঠেছে।











