দোরগোড়ায় ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে রাজ্য জুড়ে নজিরবিহীন তল্লাশি ও নজরদারি চালাচ্ছে নির্বাচন কমিশন। এই আবহেই সামনে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য—গত এক মাসে নগদ টাকা ও নিষিদ্ধ সামগ্রী মিলিয়ে প্রায় ₹৪১৭ কোটি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ভোটের আগে এই বিপুল পরিমাণ উদ্ধার ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কড়া করার বার্তা দিচ্ছে কমিশন।
কোথা থেকে কী উদ্ধার হল?
রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO) দফতর জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সংস্থার যৌথ অভিযানে—
- ₹১৯৭.৩৮ কোটি নগদ টাকা
- ₹৭৮.৪০ কোটি মূল্যের মদ
- ₹৯৫.৭৫ কোটি মূল্যের মাদক
- ₹৫২.১৬ কোটি টাকার সোনা ও মূল্যবান ধাতু
- বিপুল পরিমাণ অন্যান্য সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে
এই অভিযানে অংশ নিয়েছে ED, NCB, আয়কর দফতর, CISF, CRPF, RPF এবং রাজ্য পুলিশ।
আগ্নেয়াস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধারে চাঞ্চল্য
শুধু নগদ বা মাদক নয়, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্রও উদ্ধার হয়েছে—
- ৩২৭টি লাইসেন্সবিহীন আগ্নেয়াস্ত্র
- ৫৩৯ রাউন্ড কার্তুজ
- ১১১০টি বোমা
- প্রায় ১২৯ কেজি বিস্ফোরক
এই তথ্য সামনে আসতেই রাজ্য জুড়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
কত দিনের মধ্যে এই অভিযান?
১৫ মার্চ আদর্শ আচরণবিধি জারি হওয়ার পর থেকে ১৪ এপ্রিল রাত পর্যন্ত এই বাজেয়াপ্তির পরিসংখ্যান সামনে এসেছে। মোট বাজেয়াপ্তের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ₹৪১৬.৯৩ কোটি।
কেন এত কড়াকড়ি?
নির্বাচনের সময় অবাধ ও সুষ্ঠু ভোট নিশ্চিত করতে এই নজরদারি চালানো হচ্ছে। আদর্শ আচরণবিধি কার্যকর থাকায় রাজনৈতিক দলগুলিকে কড়া নিয়ম মেনে চলতে হচ্ছে।
কী বার্তা দিচ্ছে এই ঘটনা?
বিশেষজ্ঞদের মতে, এত বিপুল পরিমাণ নগদ ও নিষিদ্ধ সামগ্রী উদ্ধার ভোট প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে এমন আশঙ্কারই ইঙ্গিত দিচ্ছে। ফলে প্রশাসন আরও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আগামী ভোট কতটা শান্তিপূর্ণ হবে, তা নিয়েই এখন নজর রাজ্যবাসীর। এমন পরিস্থিতিতে প্রশাসনের ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে বলে মত বিশেষজ্ঞদের। আগামী কয়েকদিনে নজরদারি আরও বাড়তে পারে বলেও ইঙ্গিত মিলছে।









