নীতি আয়োগের নতুন বার্তার পর ফের শিল্পায়ন নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে বাংলায়। হাওড়া-হুগলি থেকে দুর্গাপুর-আসানসোল—একাধিক শিল্পাঞ্চলকে নতুনভাবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হতে পারে কেন্দ্রের তরফে।
বাংলায় নতুন সরকারের আবহে এবার শিল্পক্ষেত্রে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প, পাটশিল্প, টেক্সটাইল ও ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিটকে ঘিরে নতুন পরিকল্পনা তৈরি হতে পারে বলে জল্পনা শুরু হয়েছে। নীতি আয়োগের নবনিযুক্ত ভাইস চেয়ারম্যান অশোক লাহিড়ী শনিবার জানিয়েছেন, শিল্পোন্নয়নের নিরিখে পশ্চিমবঙ্গ এখনও তামিলনাড়ু, কর্ণাটক, মহারাষ্ট্র ও গুজরাটের থেকে অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছে। তবে আগামী দিনে পরিস্থিতি বদলাতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
ফের জাগতে পারে বাংলার পুরনো শিল্পাঞ্চল
রাজ্যের নজরে রয়েছে একাধিক পুরনো শিল্পতালুক। বিশেষ করে হাওড়া-হুগলি, দুর্গাপুর-আসানসোল অঞ্চলে একসময় ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পই ছিল কর্মসংস্থানের বড় ভরসা। বর্তমানে কেন্দ্র ও নীতি আয়োগ চাইছে সেই সমস্ত শিল্পাঞ্চলকে নতুন করে সক্রিয় করে তুলতে।
জানা যাচ্ছে, এমএসএমই সেক্টর, পাটশিল্প, ক্ষুদ্র ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিট, টেক্সটাইল শিল্প-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নতুন বিনিয়োগ ও আধুনিকীকরণের পরিকল্পনা নেওয়া হতে পারে। এর ফলে বহু বন্ধ বা ধুঁকতে থাকা শিল্প ইউনিট ফের চাঙ্গা হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
বাংলার জন্য আসতে পারে বিশেষ শিল্প প্যাকেজ
সূত্রের খবর, শিল্প পুনরুজ্জীবনের জন্য একটি বিশেষ প্যাকেজ তৈরির ভাবনা চলছে। এই রোডম্যাপ তৈরিতে কেন্দ্রীয় সরকার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলে জানা যাচ্ছে। একাধিক কেন্দ্রীয় মন্ত্রক পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে শিল্প উন্নয়নের নকশা প্রস্তুত করতে পারে।
সবকিছু ঠিকঠাক এগোলে ২০২৭ সালের কেন্দ্রীয় বাজেটে বাংলার জন্য বিশেষ আর্থিক প্যাকেজ ঘোষণা করা হতে পারে বলেও জল্পনা রয়েছে। যদিও সরকারিভাবে এখনও কোনও ঘোষণা হয়নি, তবুও এই সম্ভাবনাকে ঘিরে শিল্পমহলে উৎসাহ বাড়ছে।
শিল্প করিডর ও রেল প্রকল্পে জোর
শুধু শিল্প ইউনিট নয়, শিল্প করিডর তৈরি, নতুন রাস্তা নির্মাণ, জমি অধিগ্রহণ এবং একাধিক রেললাইন প্রকল্পেও গতি আনার পরিকল্পনা রয়েছে বলে খবর। বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিকাঠামো উন্নয়ন ছাড়া বড় শিল্প বিনিয়োগ টানা সম্ভব নয়। সেই কারণেই পরিবহণ ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের উপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
নীতিআয়োগের তরফে এই সামগ্রিক পরিকল্পনাকে অঘোষিতভাবে ‘সোনার বাংলা ফ্রেমওয়ার্ক’ বলেও উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। এখন দেখার আগামী দিনে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে কতটা এগোয় কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার।









