কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের মধ্যে আবারও চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে অষ্টম বেতন কমিশন (8th Pay Commission)। বেতন কতটা বাড়বে, সেই প্রশ্নের পাশাপাশি এবার আলোচনায় এসেছে নতুন ভাতা যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা। বিশেষ করে শিক্ষা ভাতা এবং ডিজিটাল অ্যালাউন্স নিয়ে কর্মীদের মধ্যে আগ্রহ তুঙ্গে।
কী কী দাবি উঠেছে কমিশনের কাছে?
বিভিন্ন কর্মী সংগঠন ইতিমধ্যেই কমিশনের কাছে একাধিক দাবি জানিয়েছে। ন্যাশনাল কাউন্সিল জয়েন্ট কনসালটেটিভ মেশিনারি (NC-JCM) প্রস্তাব দিয়েছে, ন্যূনতম বেসিক বেতন ৬৯,০০০ টাকা করা হোক। পাশাপাশি ৩.৮৩৩ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর চালুর দাবিও জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে শিক্ষক সংগঠনগুলির মতে, ন্যূনতম বেতন ৫০,০০০ থেকে ৬০,০০০ টাকার মধ্যে হওয়া উচিত, যাতে নিম্নস্তরের কর্মীরাও আর্থিকভাবে সুরক্ষিত থাকেন।
৭০০০ টাকা শিক্ষা ভাতা—কী প্রস্তাব?
সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় হল সন্তানের শিক্ষা ভাতা। বর্তমানে যে ভাতা দেওয়া হয়, তা বাড়িয়ে মাসে ৭০০০ টাকা করার প্রস্তাব উঠেছে। এতে কর্মীদের পরিবারের শিক্ষার খরচ অনেকটাই কমবে বলে মনে করা হচ্ছে।
নতুন ২০০০ টাকার ডিজিটাল অ্যালাউন্স
বর্তমান সময়ের চাহিদা অনুযায়ী একটি নতুন ভাতা যুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে—ডিজিটাল অ্যালাউন্স। এই ভাতার পরিমাণ মাসে প্রায় ২০০০ টাকা হতে পারে।
এই অর্থ মূলত ইন্টারনেট, ব্রডব্যান্ড, অনলাইন কাজ এবং AI-ভিত্তিক পরিষেবার খরচ মেটাতে সাহায্য করবে। উল্লেখ্য, সপ্তম বেতন কমিশনে এমন কোনও ভাতা ছিল না।
HRA ও অন্যান্য সুবিধাতেও বড় দাবি
শুধু শিক্ষা বা ডিজিটাল ভাতা নয়, আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ দাবিও উঠেছে—
- বাড়ি ভাড়া ভাতা (HRA) সর্বোচ্চ ৩৬% পর্যন্ত বাড়ানো
- প্রতি বছর ৭% ইনক্রিমেন্ট
- যাতায়াত ভাতা ১২% থেকে বাড়িয়ে ১৫% করা
- পুরনো পেনশন স্কিম (OPS) ফের চালু করা
প্রমোশনেও আসতে পারে নতুন নিয়ম
কর্মীদের দীর্ঘদিন একই পদে আটকে থাকার সমস্যার সমাধানে নির্দিষ্ট সময়সীমার ভিত্তিতে প্রমোশনের দাবি উঠেছে। প্রস্তাব অনুযায়ী—
- ৬ বছর
- ১২ বছর
- ১৮ বছর
- ২৪ বছর
এই ধাপে ধাপে প্রমোশন নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।
বাস্তবে কতটা সম্ভব?
এই সব প্রস্তাব এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তবে কর্মী সংগঠনগুলির দাবি এবং বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে অনেকটাই পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সব মিলিয়ে, অষ্টম বেতন কমিশন শুধু বেতন বৃদ্ধির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না—বরং কর্মীদের সামগ্রিক আর্থিক সুবিধা বাড়ানোর দিকেই জোর দেওয়া হচ্ছে। শিক্ষা ভাতা ও ডিজিটাল অ্যালাউন্সের মতো নতুন প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে সরকারি কর্মীদের আয় কাঠামোয় বড় পরিবর্তন আসতে পারে।










