দেশের রাজধানী দিল্লির পরিবহন ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের পরিকল্পনা করছে কেন্দ্র সরকার। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে রাজধানী এবং তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে যাতায়াত আরও দ্রুত ও আধুনিক করতে একাধিক মেগা প্রকল্পের রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত পরিকল্পনা হল হেলি-ট্যাক্সি পরিষেবা এবং ‘৩০ মিনিট এনসিআর’ প্রকল্প। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দিল্লি থেকে আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ শহরে পৌঁছাতে সময় লাগবে মাত্র আধঘণ্টা।
জানা গিয়েছে, আগামী ১৬ জুন থেকে ড্রাফট রিজিওনাল প্ল্যান ২০৪১ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা শুরু হবে। এই বৈঠকে দিল্লির সঙ্গে উত্তরপ্রদেশ, হরিয়ানা এবং রাজস্থানের যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও উন্নত করার বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করা হবে। দ্রুতগতির পরিবহন, নতুন শহর গঠন এবং উন্নত অবকাঠামো তৈরির ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে দিল্লি এবং ন্যাশনাল ক্যাপিটাল রিজিয়ন (এনসিআর) এলাকায় জনসংখ্যার চাপ ক্রমশ বাড়ছে। এই সমস্যা মোকাবিলায় আটটি নতুন গ্রিনফিল্ড টাউনশিপ তৈরির প্রস্তাব রাখা হয়েছে। দিল্লি-মুম্বাই ইন্ডাস্ট্রিয়াল করিডরের আদলে গড়ে তোলা হবে এই নতুন শহরগুলি। এর ফলে রাজধানীর উপর জনসংখ্যার চাপ কমবে এবং আশপাশের এলাকায় নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এই পরিকল্পনার অন্যতম আকর্ষণ ‘৩০ মিনিট এনসিআর’ প্রকল্প। হাই-স্পিড রেল করিডরের মাধ্যমে দিল্লি থেকে গুরুগ্রাম, ফরিদাবাদ, গাজিয়াবাদ কিংবা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ শহরে মাত্র ৩০ মিনিটে পৌঁছানো সম্ভব হবে। ফলে প্রতিদিনের যাতায়াতে সময় এবং খরচ দুই-ই কমবে। এর পাশাপাশি চালু করা হতে পারে অত্যাধুনিক হেলি-ট্যাক্সি পরিষেবা। এই পরিষেবার মাধ্যমে যাত্রীরা হেলিকপ্টারে চড়ে এক থেকে দুই ঘণ্টার রাস্তা মাত্র কয়েক মিনিটে অতিক্রম করতে পারবেন। বিশেষ করে ব্যবসায়ী, কর্মজীবী মানুষ এবং জরুরি পরিষেবার ক্ষেত্রে এই পরিষেবা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রকল্পগুলি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে শুধু দিল্লিই নয়, ভবিষ্যতে মুম্বই, কলকাতা, চেন্নাই, বেঙ্গালুরুর মতো বড় শহরগুলিতেও একই ধরনের আধুনিক পরিবহন ব্যবস্থা চালু করা হতে পারে। সূত্রের খবর, গোটা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য প্রায় ২০ লক্ষ কোটি টাকার বিনিয়োগ প্রয়োজন হতে পারে। যদি সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোয়, তাহলে আগামী দশকের মধ্যে ভারতের নগর পরিবহনে এক নতুন যুগের সূচনা হতে পারে।










