পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহলে নতুন বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে প্রাক্তন বিধায়ক ও কীর্তনশিল্পী অদিতি মুন্সি। তাঁর এবং তাঁর স্বামী দেবরাজ চক্রবর্তীর সম্পত্তি নিয়ে বিস্ফোরক দাবি করেছেন বিজেপি নেতা ও বিধায়ক তরুণজ্যোতি তিওয়ারি। সোশ্যাল মিডিয়ায় করা এক পোস্টে তিনি দাবি করেছেন, অদিতি মুন্সি ও তাঁর পরিবারের সম্পদের পরিমাণ আনুমানিক ১২০০ কোটি টাকার কাছাকাছি হতে পারে। তবে এই দাবি এখনও স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।
কী দাবি করেছেন তরুণজ্যোতি তিওয়ারি?
এক্স (সাবেক টুইটার) প্ল্যাটফর্মে করা পোস্টে তরুণজ্যোতি তিওয়ারি দাবি করেন যে, তিনি অদিতি মুন্সি ও তাঁর স্বামীর সম্পত্তি সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বিভিন্ন ব্যক্তি ও আত্মীয়দের নামেও সম্পত্তির তথ্য তাঁর কাছে রয়েছে। পাশাপাশি তিনি আরও তদন্ত ও তথ্য প্রকাশের ইঙ্গিত দিয়েছেন।
ভিডিওতে কী দেখানো হয়েছে?
তরুণজ্যোতির শেয়ার করা ভিডিওতে ২০২১ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে বিভিন্ন জমি ও সম্পত্তি ক্রয়ের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। ভিডিওতে একাধিক স্থানে জমি কেনাবেচা এবং সম্পত্তি বৃদ্ধির হিসাব দেখানো হয়েছে। তবে ওই তথ্যগুলির সত্যতা এখনও কোনও সরকারি সংস্থা বা আদালতের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়নি।
নির্বাচনী হলফনামায় কী ছিল?
নির্বাচনী হলফনামা অনুযায়ী অদিতি মুন্সি তাঁর অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ১.৪৩ কোটি টাকা বলে উল্লেখ করেছিলেন।
সেখানে উল্লেখ ছিল—
- নগদ ও সঞ্চয়
- সোনার গয়না
- ব্যক্তিগত যানবাহন
- অন্যান্য আর্থিক সম্পদ
এছাড়াও তাঁর নামে কিছু ঋণের তথ্যও হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছিল।
বিতর্কের কেন্দ্র কোথায়?
রাজনৈতিক মহলের একাংশের প্রশ্ন, যদি সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত দাবিগুলি সত্যি হয়, তাহলে সম্পত্তির পরিমাণ ও হলফনামায় ঘোষিত তথ্যের মধ্যে এত বড় পার্থক্য কেন? অন্যদিকে অদিতি মুন্সি বা তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে এই অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।
এখনও প্রমাণিত নয় অভিযোগ
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, তরুণজ্যোতি তিওয়ারির দাবি রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবে সামনে এসেছে। এখন পর্যন্ত কোনও তদন্তকারী সংস্থা, আদালত বা সরকারি রিপোর্ট এই ১২০০ কোটি টাকার সম্পত্তির দাবিকে আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন করেনি। ফলে বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে সরকারি তদন্ত বা প্রমাণের জন্য অপেক্ষা করাই যুক্তিযুক্ত বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। আগামী দিনে এই বিতর্ক কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।









