দিল্লির বিদ্যুৎ গ্রাহকদের জন্য বড় খবর। বিদ্যুতের উপর জ্বালানি ও বিদ্যুৎ ক্রয় সমন্বিত সারচার্জ (PPAC) বৃদ্ধির অনুমতি দিয়েছে দিল্লি ইলেকট্রিসিটি রেগুলেটরি কমিশন (DERC)। এর ফলে চলতি জুন মাস থেকেই অনেক গ্রাহকের বিদ্যুৎ বিল বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে স্বস্তির বিষয়, সাধারণ গৃহস্থালি গ্রাহকদের একটি বড় অংশ এই বৃদ্ধি থেকে আপাতত প্রভাবিত হবেন না।
কতটা বাড়ল সারচার্জ?
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, দিল্লিতে বিদ্যুতের উপর জ্বালানি ও বিদ্যুৎ ক্রয় সমন্বিত সারচার্জ ১০ শতাংশ পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। এর ফলে বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থাগুলি নির্দিষ্ট গ্রাহকদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত চার্জ আদায় করতে পারবে।
কারা সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হবেন?
এই সিদ্ধান্তের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়বে—
- বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান
- দোকানপাট
- ছোট ও বড় ব্যবসা
- শিল্প ও কারখানা
গৃহস্থালি গ্রাহকদের তুলনায় ব্যবসায়িক গ্রাহকদের বিদ্যুৎ খরচ অনেকটাই বেড়ে যেতে পারে।
জুন মাসের বিলেই বাড়তি চাপ
জানা গিয়েছে, মার্চ মাসের বকেয়া সারচার্জও জুন মাসের বিলের সঙ্গে যোগ করা হতে পারে। ফলে অনেক ব্যবসায়ীর বিদ্যুৎ বিল এক ধাক্কায় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যেতে পারে।
বিদ্যুৎ সংস্থাগুলির অবস্থান
দিল্লির বিভিন্ন বিদ্যুৎ বিতরণকারী সংস্থা নতুন হারে বিল আদায়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
- কিছু সংস্থা ১ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত চার্জ নিতে পারে
- অন্য কিছু সংস্থা ২.৫ শতাংশেরও বেশি অতিরিক্ত চার্জ আরোপ করতে পারে
ফলে গ্রাহকভেদে বিলের অঙ্কে পার্থক্য দেখা যাবে।
ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ বাড়ছে
ব্যবসায়ী সংগঠনগুলির দাবি, ইতিমধ্যেই দিল্লিতে বিদ্যুতের খরচ প্রতিবেশী রাজ্য হরিয়ানা ও উত্তরপ্রদেশের তুলনায় বেশি। নতুন সারচার্জ কার্যকর হলে দোকান, শোরুম এবং ছোট শিল্প ইউনিটগুলির মাসিক খরচ আরও বেড়ে যাবে। কিছু ক্ষেত্রে মাসিক বিদ্যুৎ বিলে কয়েক হাজার টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত চাপ পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
সাধারণ গ্রাহকদের জন্য স্বস্তি
দিল্লিতে গৃহস্থালি বিদ্যুৎ গ্রাহকদের একটি বড় অংশ সরকারি ভর্তুকির সুবিধা পেয়ে থাকেন। বিশেষ করে কম ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী পরিবারগুলির উপর এই সিদ্ধান্তের সরাসরি প্রভাব পড়বে না বলেই মনে করা হচ্ছে। তবে বাণিজ্যিক ও শিল্প গ্রাহকদের ক্ষেত্রে কোনও ভর্তুকি না থাকায় তাঁদেরই বাড়তি খরচ বহন করতে হবে।
কী প্রভাব পড়তে পারে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদ্যুৎ খরচ বৃদ্ধি পেলে—
- ব্যবসার পরিচালন ব্যয় বাড়বে
- উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পাবে
- কিছু ক্ষেত্রে পণ্যের দামও বাড়তে পারে
ফলে এই সিদ্ধান্তের প্রভাব শুধু ব্যবসায়ীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে।
আগামী কয়েক মাসে বিদ্যুতের নতুন বিল হাতে পাওয়ার পরই এর প্রকৃত প্রভাব স্পষ্ট হবে।









