২০০ কোটি টাকার জালিয়াতি মামলায় অভিযুক্ত সুকেশ চন্দ্রশেখর আবারও শিরোনামে। জেলবন্দি অবস্থাতেই বলিউড অভিনেত্রী জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজকে উদ্দেশ্য করে তিনি ফের একটি আবেগঘন চিঠি লিখেছেন। ২১ এপ্রিল লেখা সেই চিঠি ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে গেছে।
চিঠিতে কী লিখলেন সুকেশ?
চিঠিতে সুকেশ জ্যাকুলিনকে একাধিক স্নেহপূর্ণ নামে সম্বোধন করেছেন—‘মাই জ্যাকি’, ‘বেবি বোটা বোম্মা’। তিনি লিখেছেন, “প্রেম ও যুদ্ধে সবই ন্যায্য। তুমি আমার, আমি চিরকালের জন্য তোমার।”
এছাড়াও তিনি দাবি করেছেন, যে কোনও পরিস্থিতিতে তিনি জ্যাকুলিনের পাশে থাকবেন। চিঠির শেষে নিজেকে ‘তোমার বেবি বয়’ বলেও উল্লেখ করেছেন। এই আবেগঘন বার্তা ঘিরে আবারও চর্চা শুরু হয়েছে দুইজনের সম্পর্ক নিয়ে।
আদালতে বড় পদক্ষেপ জ্যাকুলিনের
এই চিঠির মাঝেই মামলায় বড় পদক্ষেপ নিয়েছেন জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজ। তিনি দিল্লির আদালতে ‘অনুমোদনকারী’ (approver) হওয়ার আবেদন জানিয়েছেন।
সহজভাবে বলতে গেলে, অনুমোদনকারী হলেন এমন একজন অভিযুক্ত যিনি মামলার সমস্ত সত্য প্রকাশ করে তদন্তে সহযোগিতা করতে রাজি হন। এর বদলে আদালত তাঁর সাজা লঘু বা মকুব করতে পারে।
শুনানির পরবর্তী তারিখ কবে?
এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য হয়েছে ৮ মে, ২০২৬। আদালত এখনও জ্যাকুলিনের আবেদন মঞ্জুর করেনি। আপাতত তাঁকে অভিযুক্ত হিসেবেই গণ্য করা হচ্ছে।
ইডির অবস্থান কী?
এই মামলার তদন্ত করছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, জ্যাকুলিনের আবেদন এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয় এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য সময় চাওয়া হয়েছে।
কী এই ২০০ কোটির জালিয়াতি মামলা?
অভিযোগ, সুকেশ নিজেকে উচ্চপদস্থ সরকারি আধিকারিক পরিচয় দিয়ে একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেন। সেই অর্থের একটি অংশ দিয়ে বিলাসবহুল উপহার কেনা হয়েছিল।
তদন্তকারী সংস্থার দাবি, সেই উপহারের মধ্যে কিছু জিনিস জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজকেও দেওয়া হয়েছিল—যার মধ্যে ছিল দামী গয়না, ব্যাগ এবং অন্যান্য সামগ্রী।
জ্যাকুলিনের দাবি কী?
অভিনেত্রীর দাবি, তিনি এই জালিয়াতির বিষয়ে কিছুই জানতেন না। তিনি সুকেশকে একজন ব্যবসায়ী হিসেবেই চিনতেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগ সম্পর্কে অবগত ছিলেন না বলে জানিয়েছেন।
সব মিলিয়ে, একদিকে জেল থেকে আসা আবেগঘন চিঠি, অন্যদিকে আদালতে বড় আইনি পদক্ষেপ—এই দুইয়ের সংমিশ্রণে সুকেশ-জ্যাকুলিন মামলা নতুন মোড় নিতে চলেছে। এখন নজর আদালতের সিদ্ধান্তের দিকে।














