বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফা ঘিরে চরম তৎপর বিজেপি শিবির। আর সেই লক্ষ্যেই কলকাতায় ঘাঁটি গেড়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। দলীয় সূত্রে খবর, আগামী ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত শহরেই থেকে সরাসরি নির্বাচনী কৌশল তদারকি করতে পারেন তিনি।
গভীর রাতে হাই-লেভেল বৈঠক
মঙ্গলবার রাতেই নিউটাউনের একটি হোটেলে প্রায় আড়াই ঘণ্টার ম্যারাথন বৈঠক করেন শাহ। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দলের একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা ও সাংগঠনিক দায়িত্বপ্রাপ্তরা। প্রথম দফার ভোটের আগে বুথ স্তরের প্রস্তুতি, প্রার্থীভিত্তিক রিপোর্ট এবং ভোটের অঙ্ক—সবকিছু নিয়েই বিশদ আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।
১৩ জেলার রিপোর্ট কার্ড বিশ্লেষণ
বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, কলকাতার সাংগঠনিক পরিসরে থাকা ১৩টি জেলার রিপোর্ট কার্ড খুঁটিয়ে দেখেছেন শাহ। প্রতিটি বিধানসভা আসনের ভোট সমীকরণ, সংখ্যালঘু ভোটের হার, গ্রাউন্ড রিপোর্ট—সব তথ্য যাচাই করেছেন তিনি।
স্থানীয় নেতাদের দেওয়া রিপোর্টের সঙ্গে কেন্দ্রীয় স্তরের ডেটা মিলিয়ে কোথায় জোর বাড়াতে হবে, কোথায় ঘাটতি রয়েছে—সেই হিসেব কষেই চূড়ান্ত রণকৌশল তৈরি করা হচ্ছে।
প্রচারে নামছেন শাহ
বৈঠকের পরেই মাঠে নামছেন অমিত শাহ। দ্বিতীয় দফার নির্বাচনের প্রচারে আজ তাঁর জোড়া জনসভা রয়েছে—একটি হুগলির সপ্তগ্রামে এবং অন্যটি উত্তর ২৪ পরগনার হাবড়ায়। এই সভাগুলিতে ভোটারদের উদ্দেশ্যে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিতে পারেন তিনি।
প্রথম দফার ভোটে নজর কেন?
আগামী ২৩ এপ্রিল প্রথম দফার ভোটগ্রহণ। এই দফায় ভালো ফল করতে মরিয়া বিজেপি নেতৃত্ব। তাই কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব সরাসরি নজরদারি করছে এবং বুথ স্তর পর্যন্ত সংগঠনকে চাঙ্গা করার চেষ্টা চলছে।
বিশেষ করে সংখ্যালঘু ভোট, স্থানীয় ইস্যু এবং প্রার্থীভিত্তিক শক্তি—এই তিনটি বিষয়কে সামনে রেখেই কৌশল সাজানো হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, নির্বাচনের আগে অমিত শাহের এই দীর্ঘ সময় কলকাতায় থাকা এবং সরাসরি কৌশল নির্ধারণে অংশ নেওয়া থেকে স্পষ্ট—প্রথম দফার ভোটকে ঘিরে কোনও ঝুঁকি নিতে চাইছে না বিজেপি। এখন দেখার, এই পরিকল্পনা ভোটের ময়দানে কতটা প্রভাব ফেলে।











