স্মার্টফোনের সিগন্যাল বারের পাশে 5G লেখা দেখতে এখন অনেকেই অভ্যস্ত। তবে অনেক সময় কিছু ব্যবহারকারী 5G++ বা 5G+ চিহ্নও দেখতে পান। এটি দেখে অনেকেই মনে করেন যে এটি হয়তো 6G প্রযুক্তি বা সাধারণ 5G-এর থেকেও উন্নত কোনও নতুন নেটওয়ার্ক। কিন্তু বাস্তবে বিষয়টি সম্পূর্ণ আলাদা। 5G++ আসলে কোনও নতুন প্রজন্মের মোবাইল নেটওয়ার্ক নয়। এটি মূলত একটি প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য, যার নাম Carrier Aggregation। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে স্মার্টফোন একসঙ্গে একাধিক 5G ফ্রিকোয়েন্সি ব্যান্ড ব্যবহার করতে পারে। ফলে ডেটা আদান-প্রদানের জন্য একাধিক পথ তৈরি হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে ইন্টারনেটের গতি ও নেটওয়ার্কের স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি পায়।
সাধারণত একটি মোবাইল ফোন একটি নির্দিষ্ট সময়ে একটি টাওয়ারের একটি ফ্রিকোয়েন্সি ব্যান্ডের সঙ্গে সংযুক্ত থাকে। কিন্তু যখন ফোনে 5G++ দেখা যায়, তখন বুঝতে হবে ডিভাইসটি একই সময়ে দুই বা তার বেশি 5G ব্যান্ড ব্যবহার করছে। এর ফলে দ্রুত ডাউনলোড, ভালো ভিডিও স্ট্রিমিং এবং কম ল্যাটেন্সির সুবিধা পাওয়া যেতে পারে। তবে 5G++ ব্যবহার করার জন্য আলাদা করে কোনও বাটন বা সেটিংস অন করার প্রয়োজন হয় না। আপনার ফোনে 5G পরিষেবা সক্রিয় থাকলে এবং সংশ্লিষ্ট মোবাইল অপারেটর যদি ওই এলাকায় Carrier Aggregation সমর্থন করে, তাহলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে 5G++ চিহ্ন দেখা যাবে।
অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীরা ফোনের Settings > Mobile Network > Preferred Network Type অপশনে গিয়ে 5G Auto বা Prefer 5G নির্বাচন করে রাখতে পারেন। অন্যদিকে আইফোন ব্যবহারকারীরা Settings > Cellular > Cellular Data Options > Voice & Data-এ গিয়ে 5G Auto অথবা 5G On অপশন চালু রাখতে পারেন। এছাড়াও 5G Standalone (SA) মোড চালু থাকলে ফোন শুধুমাত্র 5G নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে, ফলে অনেক ক্ষেত্রে 5G++ সুবিধা পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।
তবে মনে রাখতে হবে, 5G++ সব সময় বেশি গতি দেবে এমন নয়। কারণ একাধিক ব্যান্ডের মধ্যে যদি কোনও একটি ব্যান্ড দুর্বল বা ধীরগতির হয়, তাহলে সামগ্রিক পারফরম্যান্সেও প্রভাব পড়তে পারে। পাশাপাশি একাধিক সিগন্যাল প্রসেস করার কারণে স্মার্টফোন তুলনামূলক বেশি গরম হওয়া বা ব্যাটারি দ্রুত খরচ হওয়ার সম্ভাবনাও থাকে। তবুও উন্নত নেটওয়ার্ক অভিজ্ঞতা, স্থিতিশীল সংযোগ এবং অধিক ডেটা স্পিডের জন্য 5G++ বর্তমানে মোবাইল প্রযুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।














