পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ুতে দ্রুত পিএম শ্রী প্রকল্প চালুর জন্য উদ্যোগী কেন্দ্র। খুব শীঘ্রই দুই রাজ্যের মুখ্য সচিবদের কাছে চিঠি পাঠাতে চলেছে কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রক। আর কোনও বাধা নেই, এবার কপাল খুলতে চলেছে বাংলার স্কুল পড়ুয়াদের। শুধু বাংলা কেন, ভাগ্য বদলে যেতে চলেছে তামিলনাড়ুর পড়ুয়াদেরও। কেন্দ্রের পিএম শ্রী প্রকল্প (PM Shri Scheme) দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য একটি সমঝোতা স্মারক বা মৌ স্বাক্ষরের আবেদন জানিয়ে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ুকে চিঠি পাঠাতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। ফলে বহুদিন ধরে আটকে থাকা এই প্রকল্প বাস্তবায়নের পথ এবার অনেকটাই পরিষ্কার বলে মনে করছে শিক্ষা মহল।
পিএম শ্রী প্রকল্পে জোর কেন্দ্রের
জাতীয় শিক্ষা নীতি বা NEP 2020-এর অধীনে নির্বাচিত সরকারি স্কুলগুলিকে আধুনিক ও মডেল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলাই পিএম শ্রী প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। এই প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সরকারি স্কুলে স্মার্ট ক্লাসরুম, আধুনিক পরিকাঠামো, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থা এবং উন্নত প্রশিক্ষণের সুযোগ তৈরি করা হবে। কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রকের এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন, খুব শীঘ্রই পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ুর মুখ্য সচিবদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠানো হবে। সেই চিঠিতে প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষরের অনুরোধ জানানো হবে। কেন্দ্র আশাবাদী যে দুই রাজ্যই এবার এই প্রকল্পে অংশ নেবে।
আগে কেন যোগ দেয়নি বাংলা?
তৃণমূল কংগ্রেস শাসিত পশ্চিমবঙ্গ এবং ডিএমকে শাসিত তামিলনাড়ু আগে এই প্রকল্পে যোগ দেয়নি। রাজ্যগুলির দাবি ছিল, কেন্দ্রের শিক্ষা নীতি এবং কিছু শর্ত মেনে নেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকায় তারা মৌ স্বাক্ষর করেনি। এর জেরে সমগ্র শিক্ষা অভিযানের আওতায় বিভিন্ন শিক্ষামূলক প্রকল্পের অর্থ বরাদ্দ নিয়েও কেন্দ্র ও রাজ্যগুলির মধ্যে মতবিরোধ তৈরি হয়। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু, কেরালা, দিল্লি এবং পাঞ্জাবের মতো কয়েকটি রাজ্যের সমগ্র শিক্ষা অভিযানের তহবিল আটকে দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে। কেন্দ্রের বক্তব্য ছিল, পিএম শ্রী প্রকল্পের আওতায় অর্থ পেতে গেলে সংশ্লিষ্ট রাজ্যকে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করতেই হবে। যদিও বিরোধী দলগুলি অভিযোগ করে, শিক্ষা খাতে কেন্দ্রীয় তহবিলকে জাতীয় শিক্ষা নীতির সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হচ্ছে।
দেশজুড়ে গড়ে উঠবে ১৪,৫০০-এর বেশি স্কুল
পিএম শ্রী প্রকল্পের অধীনে দেশজুড়ে ১৪,৫০০-এরও বেশি স্কুলকে উন্নত মডেল বিদ্যালয়ে রূপান্তর করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এই স্কুলগুলিতে শুধুমাত্র পড়াশোনা নয়, দক্ষতা উন্নয়ন, ডিজিটাল শিক্ষা, পরিবেশবান্ধব পরিকাঠামো এবং আধুনিক শিক্ষণ পদ্ধতির ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, পশ্চিমবঙ্গ এই প্রকল্পে যোগ দিলে রাজ্যের সরকারি স্কুলগুলির পরিকাঠামোগত উন্নয়নে বড়সড় পরিবর্তন আসতে পারে। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকার ছাত্রছাত্রীরা আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থার সুবিধা পেতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।
এখন কী হতে পারে?
সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর পশ্চিমবঙ্গে পরিস্থিতি বদলেছে বলে কেন্দ্রীয় সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে। ফলে এবার রাজ্য সরকার পিএম শ্রী প্রকল্প নিয়ে ইতিবাচক অবস্থান নিতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। যদিও তামিলনাড়ুর ক্ষেত্রে এখনও পুরো বিষয়টি স্পষ্ট নয়। তবে শিক্ষা মহলের একাংশের মতে, কেন্দ্র ও রাজ্যের সংঘাত ভুলে যদি প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয়, তাহলে তার সবচেয়ে বড় উপকার পাবেন সাধারণ ছাত্রছাত্রীরাই। সরকারি স্কুলে পড়ুয়াদের জন্য উন্নত সুযোগ-সুবিধা এবং আধুনিক শিক্ষার পরিবেশ তৈরি হলে আগামী দিনে তার সুফল মিলবে রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থাতেও।










