রাজ্যের লক্ষ লক্ষ সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান। অবশেষে রাজ্যে সপ্তম পে কমিশন কার্যকর করার ঘোষণা করল নতুন রাজ্য সরকার। শিক্ষক-শিক্ষিকা থেকে শুরু করে বিভিন্ন দফতরের কর্মীদের জন্য এই ঘোষণাকে বড় স্বস্তি বলেই মনে করা হচ্ছে। যদিও ডিএ বৃদ্ধির পরিমাণ নিয়ে এখনও সরকারিভাবে কিছু জানানো হয়নি, তবুও খুব শীঘ্রই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর।
প্রতিশ্রুতি পূরণ করল নতুন সরকার
রাজ্য বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার আগেই তাদের নির্বাচনী সংকল্পপত্রে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, সরকার গঠন করতে পারলে ৪৫ দিনের মধ্যেই সপ্তম বেতন কমিশন কার্যকর করা হবে। সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবারের মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা করেন।
ডিএ বৃদ্ধি নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা
নবান্নে আয়োজিত প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী জানান, সরকারি কর্মীদের দীর্ঘদিনের দাবি মেনে সপ্তম পে কমিশন চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, দিলীপ ঘোষ সহ একাধিক মন্ত্রী ও প্রশাসনিক আধিকারিক। তবে ডিএ বৃদ্ধির হার বা কবে থেকে তা কার্যকর হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত এখনও প্রকাশ করা হয়নি।
সরকারি সূত্রে জানা যাচ্ছে, সপ্তম পে কমিশন চালু হলে কর্মীদের বেসিক বেতন বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি ডিএ-তেও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসতে পারে। এর ফলে রাজ্যের আর্থিক চাপ কিছুটা বাড়লেও সরকারি কর্মীদের হাতে অতিরিক্ত অর্থ পৌঁছবে বলে মনে করা হচ্ছে।
১ জুন থেকেই মিলবে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা
অন্যদিকে, রাজ্যের বহুল আলোচিত অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্প নিয়েও এদিন গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে। পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানিয়েছেন, আগামী ১ জুন থেকেই এই প্রকল্পের আওতায় উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে ৩০০০ টাকা করে পাঠানো শুরু হবে। যারা আগে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের সুবিধা পেতেন, তাঁদের অ্যাকাউন্টেই সরাসরি টাকা পাঠানো হবে। নতুন করে আবেদন করার প্রয়োজন হবে না।
তবে যাঁরা এতদিন লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সুবিধা পাননি, তাঁদের জন্য নতুন আবেদন প্রক্রিয়া চালু করা হবে। খুব শীঘ্রই অনলাইন পোর্টাল খোলা হবে বলে সরকার সূত্রে খবর।
সুপ্রিম কোর্টে চাকরিহারা শিক্ষকদের মামলা
এদিকে চাকরিহারা শিক্ষকদের মামলাতেও বড় আপডেট সামনে এসেছে। প্রাথমিক শিক্ষা ক্ষেত্রে প্রায় ৩২ হাজার শিক্ষকের চাকরি বাতিলের মামলা এবার সুপ্রিম কোর্টে উঠেছে। দেশের সর্বোচ্চ আদালত মামলাটি শুনানির জন্য গ্রহণ করেছে বলে জানা গিয়েছে। বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত ও সতীশচন্দ্র শর্মার ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হতে পারে। আগামী আগস্ট মাসের তৃতীয় সপ্তাহে মামলার পরবর্তী শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে।
শিক্ষক মহলের একাংশের দাবি, সুপ্রিম কোর্টের রায়ে যোগ্য চাকরিহারাদের জন্য ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আসতে পারে। ফলে রাজ্যের শিক্ষা মহলেও এখন এই মামলাকে ঘিরে বাড়ছে জল্পনা








