১ জুন থেকে চালু হতে চলেছে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার। তবে অনেকের মনেই প্রশ্ন উঠছে, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ও নতুন প্রকল্পের টাকা কি একসাথে পাওয়া যাবে? জেনে নিন বিস্তারিত। যেমনটা নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিজেপি, সেই কথাই রইল। আগামী ১ জুন থেকেই চালু হচ্ছে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার (Annapurna Bhandar), যার আওতায় প্রতি মাসে মহিলাদের অ্যাকাউন্টে ৩০০০ টাকা করে ঢুকবে। তবে গতকাল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন যে, আগের সরকারের চালানো প্রকল্পগুলি বন্ধ হচ্ছে না। সেই সূত্রে প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি লক্ষ্মীর ভাণ্ডার (Lakshmir Bhandar) এবং অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার একসাথে মিলবে?
১ জুন থেকেই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার
উল্লেখ্য, ভোটের প্রচারে গিয়ে বিজেপি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে, যদি তারা ক্ষমতায় আসতে পারে তাহলে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের দ্বিগুণ অর্থ অর্থাৎ ৩০০০ টাকা করে দেওয়া হবে, এবং নতুন প্রকল্প চালু করা হবে, যার নাম দেওয়া হবে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার। সেই মতো এবার ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। আর প্রতিশ্রুতি পূরণ করার জন্য গতকালই ঘোষণা করা হয়েছে যে, ১ জুন থেকেই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা মিলবে। এমনকি এও জানা যাচ্ছে যে, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের ভাতা যে অ্যাকাউন্টে ঢুকত, সেই অ্যাকাউন্টেই হয়তো অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা ঢুকবে। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে কৌতূহল আরও বেড়েছে।
লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ও অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার কি একসাথে মিলবে?
এবার যেহেতু মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কথা দিয়েছেন যে, আগের চালু হওয়া প্রকল্পগুলি বন্ধ হচ্ছে না, সেই কারণে অনেকেই ভাবছেন দুই প্রকল্পের টাকা একসাথে মিলতে পারে। তবে এমনটা ভাবার কোনও কারণ নেই। কারণ, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প বন্ধ হয়ে সেটাই নতুনরূপে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার হিসেবে চালু হবে বলে জানা যাচ্ছে। অর্থাৎ আগে যেখানে ১৫০০ টাকা মিলত, সেখানে এখন ৩০০০ টাকা দেওয়া হবে। ফলে মাসে ৪৫০০ টাকা পাওয়ার খবর সম্পূর্ণ ভুয়ো।
শুধুমাত্র ৩০০০ টাকা করেই পাবেন মহিলারা। এছাড়া তপশিলি জাতি বা উপজাতি শ্রেণির মহিলাদের জন্য আলাদা বাড়তি টাকার কথাও এখনও ঘোষণা করা হয়নি। প্রত্যেক যোগ্য মহিলা সমানভাবে ৩০০০ টাকা করে প্রতি মাসে পাবেন বলে জানা যাচ্ছে।
কারা পাবেন এই প্রকল্পের সুবিধা?
অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের সুবিধা পেতে গেলে আবেদনকারী মহিলাকে কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে। প্রাথমিকভাবে যে তথ্য সামনে এসেছে, তা হল—
- আবেদনকারীর বয়স হতে হবে ২৫ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে
- আবেদনকারীকে পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে
- পরিবারের বার্ষিক আয় ২.৫ লক্ষ টাকার মধ্যে থাকতে হবে
- আধার নম্বরের সঙ্গে মোবাইল নম্বর লিঙ্ক থাকা বাধ্যতামূলক
- পরিবারের কেউ সরকারি চাকরি করলে এই সুবিধা মিলবে না
- আবেদনকারীর নামে চারচাকা গাড়ি বা ট্রাক্টর থাকলে আবেদন বাতিল হতে পারে
- এসআইআর প্রক্রিয়ায় যাদের নাম বাদ গিয়েছে, তারা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না
কীভাবে আবেদন করা যাবে?
সরকারের তরফে এখনও সম্পূর্ণ আবেদন প্রক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে খুব শীঘ্রই অনলাইন ও অফলাইন—দুই মাধ্যমেই আবেদন গ্রহণ শুরু হতে পারে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর। আবেদন সংক্রান্ত সরকারি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে। ইতিমধ্যেই এই প্রকল্প নিয়ে রাজ্যের মহিলাদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ তৈরি হয়েছে। অনেকেই এখন সরকারি ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছেন, কবে থেকে আবেদন শুরু হবে এবং কীভাবে টাকা পাওয়া যাবে তা জানার জন্য।











