ভোটের ঠিক আগে রাজ্যের রাজনৈতিক আবহাওয়া আরও উত্তপ্ত করে তুলল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি মন্তব্য। উত্তরবঙ্গের সভা থেকে দেওয়া তাঁর ‘হাতা-খুন্তি নিয়ে বেরোন’ বার্তা ঘিরে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে, আর তার জেরেই এবার সরাসরি নড়েচড়ে বসেছে নির্বাচন কমিশন।
সূত্রের খবর, এই মন্তব্যকে ‘উস্কানিমূলক’ হিসেবে দেখেই পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO) কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়েছে কমিশন। ইতিমধ্যেই ভাইরাল হয়ে যাওয়া ভিডিও ক্লিপ খতিয়ে দেখে দ্রুত রিপোর্ট পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঠিক কী বলেছিলেন মমতা?
উত্তরবঙ্গের মাটিগাড়া-নকশালবাড়ির জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী মা-বোনেদের উদ্দেশে বলেন—ভোটের দিন বুথ পাহারা দিতে এবং কেউ ভয় দেখাতে এলে ঘরে যা আছে তাই নিয়েই বেরিয়ে আসতে। এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে তুমুল চর্চা শুরু হয়।
বিরোধীদের অভিযোগ, এই ধরনের মন্তব্য ভোটের পরিবেশ উত্তপ্ত করতে পারে এবং হিংসা উসকে দিতে পারে। যদিও তৃণমূলের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী আত্মরক্ষার বার্তাই দিয়েছেন, কোনোভাবেই হিংসা উস্কে দেননি।

কেন নড়ল নির্বাচন কমিশন?
সোশ্যাল মিডিয়ায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়া এই ভিডিও নিয়ে কমিশনের উদ্বেগ—এটি ভোটের সময় আইনশৃঙ্খলার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে বাস্তব পরিস্থিতি জানতেই রিপোর্ট তলব করা হয়েছে।
এর আগেই রাজ্যে একাধিক অশান্তির ঘটনা সামনে এসেছে। বাঘাযতীনে খুন, বাসন্তীতে সংঘর্ষ—এই সব ঘটনার পর কমিশন ইতিমধ্যেই কড়া অবস্থান নিয়েছে। বাসন্তী থানার আইসিকেও সাসপেন্ড করা হয়েছে দায়িত্বে গাফিলতির অভিযোগে।
রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়বে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনাকে ঘিরে ভোটের আগে রাজনৈতিক লড়াই আরও তীব্র হতে পারে। একদিকে কমিশনের কড়া নজরদারি, অন্যদিকে শাসক-বিরোধী তরজা—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে।
মুখ্যমন্ত্রীর একটি মন্তব্য থেকেই এখন বড় রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কমিশনের রিপোর্টের পর পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। ভোটের আগে এই ইস্যু কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটার দিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।











