২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর এবার দলের ‘ডিজিটাল যোদ্ধা’দের মনোবল চাঙ্গা করতে মাঠে নামলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার কালীঘাটে তৃণমূলের ডিজিটাল টিমের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসে তাঁরা স্পষ্ট বার্তা দেন, বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই এখনও শেষ হয়নি, বরং আগামী লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে আরও বড় আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।
দলীয় সূত্রে খবর, বৈঠকে একাধিকবার কর্মীদের উদ্দেশে বলা হয়, “আমরা হারিনি, আমাদের হারানো হয়েছে।” ভোট গণনায় কারচুপির অভিযোগও তোলেন মমতা ও অভিষেক। বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই তৃণমূল নেতৃত্ব ধারাবাহিকভাবে এই অভিযোগ তুলে আসছে। বৈঠকে উপস্থিত ডিজিটাল টিমের সদস্যদের মনোবল বাড়াতে বিশেষ গুরুত্ব দেন মমতা। সূত্রের দাবি, তিনি কর্মীদের উদ্দেশে বলেন যে, রাজনৈতিক লড়াইয়ে সাময়িক পরাজয় এলেও সংগঠনের লড়াই থেমে থাকতে পারে না। আগামী দিনে বিজেপি পরিচালিত রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনকে আরও জোরদার করার কথাও শোনা যায় তাঁর বক্তব্যে।
আইটি সেলে বড় রদবদল
এই বৈঠকের মধ্যেই তৃণমূলের আইটি সেলে বড়সড় পুনর্গঠনের ঘোষণা করা হয়েছে। এতদিন দলের আইটি শাখার ইনচার্জ ছিলেন দেবাংশু ভট্টাচার্য। নতুন কাঠামোয় আর কোনও একক ইনচার্জ রাখা হয়নি। পরিবর্তে একটি কোর কমিটি গঠন করা হয়েছে। সেই কমিটিতে প্রথম নাম রয়েছে উপাসনা চৌধুরীর এবং দ্বিতীয় নাম দেবাংশু ভট্টাচার্যের। রাজনৈতিক মহলের মতে, ডিজিটাল প্রচারকে আরও শক্তিশালী করতেই এই সাংগঠনিক পরিবর্তন।
দলীয় সূত্রের দাবি, আগামী দিনে সোশ্যাল মিডিয়ায় আরও আক্রমণাত্মক প্রচার কৌশল নেওয়ার পরিকল্পনাও করা হচ্ছে। বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের কাছে পৌঁছতে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মকে আরও বেশি গুরুত্ব দিতে চাইছে তৃণমূল নেতৃত্ব।
২০২৯ লোকসভাকে সামনে রেখে প্রস্তুতি
বৈঠকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও উপস্থিত ছিলেন। তিনি আগামী ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’-কে আরও শক্তিশালী করার বার্তা দেন। বিজেপির বিরুদ্ধে জাতীয় স্তরে বৃহত্তর ঐক্যের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
অন্যদিকে, আগামী শুক্রবার কালীঘাটের বাসভবনে জেলার শীর্ষ নেতাদের নিয়ে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ডেকেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ভোটে পরাজয়ের পর ভবিষ্যৎ রণকৌশল নির্ধারণ এবং বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের রূপরেখা তৈরি করাই ওই বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন জেলার সভাপতিদের কাছে লিখিত বার্তা পাঠানো হয়েছে এবং উপস্থিত থাকার জন্য বিশেষ অনুরোধ করা হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পরাজয়ের ধাক্কা কাটিয়ে সংগঠনকে নতুন করে চাঙ্গা করতে এখন থেকেই সক্রিয় হতে চাইছে তৃণমূল। আর সেই কারণেই প্রথমে জয়ী বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠক, তারপর ডিজিটাল টিম এবং এবার জেলা নেতৃত্ব— ধাপে ধাপে সংগঠন পুনর্গঠনের পথে হাঁটছে দল।











