দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ শেষ হতেই রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বেড়ে গিয়েছে। কোথায় কোন দল এগিয়ে, কার ভাগ্যে কী ফল অপেক্ষা করছে—তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। এই পরিস্থিতিতে তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ একটি রিপোর্ট সামনে আসতেই নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
তৃণমূলের রিপোর্টে কী দাবি?
সূত্রের খবর, শাসকদলের এই অভ্যন্তরীণ বিশ্লেষণে বেশ আশাবাদী ছবি তুলে ধরা হয়েছে। দাবি করা হয়েছে, এবারের নির্বাচনে তৃণমূল প্রায় ২৩০টি আসন পেতে পারে। বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রেও জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী দল।
বিশেষ করে নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুরের মতো হাই-প্রোফাইল আসন নিয়েও ইতিবাচক রিপোর্ট রয়েছে বলে জানা গেছে।
জয়ের পেছনে কী কারণ দেখছে দল?
এই রিপোর্টে একাধিক সামাজিক ও রাজনৈতিক ইস্যুকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তৃণমূলের মতে—
- ‘বাংলাদেশি’ তকমা দেওয়ার প্রচেষ্টা সাধারণ মানুষের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে
- বহিরাগত নেতাদের মন্তব্যে বাঙালির আত্মসম্মানে আঘাত লেগেছে
- ভয় দেখানোর রাজনীতি ভোটাররা গ্রহণ করেননি
এই সমস্ত বিষয় ভোটের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করছে শাসকদল।
নারী ভোটার ও সরকারি প্রকল্পের প্রভাব
তৃণমূলের রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার-সহ বিভিন্ন জনমুখী প্রকল্প নারী ভোটারদের মধ্যে বড় প্রভাব ফেলেছে। এছাড়াও পরিযায়ী শ্রমিকদের পাশে দাঁড়ানো এবং সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পগুলিও ভোটে ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে বলে দাবি।
NRC ও CAA ইস্যুতেও প্রতিক্রিয়া
রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, NRC ও CAA নিয়ে মানুষের মধ্যে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল, তা ভোটে প্রতিফলিত হয়েছে। অনেক ভোটার এই ইস্যুগুলিকে গুরুত্ব দিয়ে ভোট দিয়েছেন বলে মনে করছে দল।
চূড়ান্ত ফলাফলের অপেক্ষা
তবে এই সবই আপাতত অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন। চূড়ান্ত ফলাফলই নির্ধারণ করবে কে এগিয়ে এবং কার ভাগ্যে ক্ষমতা আসছে। তবুও তৃণমূলের এই আত্মবিশ্বাস রাজনৈতিক লড়াইকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।










