রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের অকালমৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে টলিউডে। এই ঘটনার পর থেকেই একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে—এটি কি নিছক দুর্ঘটনা, নাকি এর নেপথ্যে অন্য কোনো কারণ রয়েছে? সেই সত্য উদঘাটনের দাবিতে এবার সরব হল West Bengal Motion Picture Artists’ Forum।
শনিবার দুপুরে কলকাতার রিজেন্ট পার্ক থানায় পৌঁছে অভিনেতার স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে উপস্থিত থেকে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন টলিউডের একাধিক প্রথম সারির শিল্পী। গোটা ঘটনাকে কেন্দ্র করে টলিউডে উত্তেজনা ও ক্ষোভ স্পষ্টভাবে ধরা পড়েছে।
এই পদক্ষেপের নেতৃত্ব দেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, জিশু সেনগুপ্ত, চিরঞ্জিত চক্রবর্তী, সৌরভ দাস-সহ আরও অনেকেই। প্রিয়াঙ্কাকে এই কঠিন সময়ে পাশে থেকে মানসিকভাবে শক্ত থাকার চেষ্টা করতে দেখা যায় সহকর্মীদের। আইনি প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করতে তাঁদের সঙ্গে ছিলেন অভিজ্ঞ আইনজীবীরাও।
গত ২৯ মার্চ ওড়িশার তালসারিতে শুটিং চলাকালীন সমুদ্রে ডুবে রাহুলের মৃত্যু হয়। তবে এই ঘটনাকে ঘিরে তৈরি হয়েছে একাধিক অসঙ্গতি। দুর্ঘটনার সময় শুটিং চলছিল কি না, প্যাক-আপ হয়ে গিয়েছিল কি না—এই নিয়ে প্রযোজনা সংস্থার বক্তব্যে বিভ্রান্তি দেখা গিয়েছে। সহ-অভিনেতাদের অভিযোগ, প্রকৃত তথ্য গোপন করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
এর আগে ১ এপ্রিল প্রযোজনা সংস্থাকে চিঠি পাঠিয়েছিল আর্টিস্ট ফোরাম। কিন্তু সেই চিঠির কোনও সন্তোষজনক উত্তর না মেলায় ক্ষোভ আরও বাড়ে। এই পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়েই আইনি পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নেয় ফোরাম। এমনকি এই ঘটনার প্রতিবাদে শহরে প্রতিবাদ মিছিলের ডাকও দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
ফোরামের স্পষ্ট বক্তব্য, শুধুমাত্র পরিবারের নয়, রাহুলের অসংখ্য অনুরাগী ও সহকর্মীদেরও জানার অধিকার রয়েছে ঠিক কী ঘটেছিল সেদিন। একটি নিরপেক্ষ এবং স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমেই এই রহস্যের সমাধান সম্ভব। এখন সকলের নজর পুলিশের তদন্তের দিকে। টলিউডের এই ঐক্যবদ্ধ অবস্থান তদন্তের গতিপথে কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটাই দেখার।













