গরম বাড়তেই দেশের বিভিন্ন রাজ্যে শুরু হয়ে গিয়েছে গরমের ছুটি ঘোষণা। ইতিমধ্যেই গুজরাট, দিল্লি ও ওড়িশার মতো একাধিক রাজ্য গরমের পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে স্কুল বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে পশ্চিমবঙ্গে এখনও পর্যন্ত গরমের ছুটি নিয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না হওয়ায় ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকদের মধ্যে বাড়ছে অপেক্ষা। প্রতি বছর মে মাসে স্কুলে গরমের ছুটি শুরু হলেও আবহাওয়ার পরিস্থিতি অনুযায়ী অনেক সময় ছুটির দিন এগিয়ে আনা হয়। বিশেষ করে তাপপ্রবাহ ও অতিরিক্ত গরমে ছোটদের স্বাস্থ্যের কথা ভেবেই এই সিদ্ধান্ত নেয় শিক্ষা দফতর।
গুজরাটে ৩৫ দিনের গরমের ছুটি
গুজরাট সরকারের শিক্ষা দফতরের তরফে জানানো হয়েছে, আগামী ৪ মে থেকে শুরু হবে গরমের ছুটি। টানা ৩৫ দিন বন্ধ থাকবে স্কুল। ছুটি চলবে ৭ জুন পর্যন্ত এবং ৮ জুন থেকে ফের খুলবে স্কুল। এই সিদ্ধান্তে স্বস্তি পেয়েছেন পড়ুয়া ও শিক্ষকরা।
দিল্লিতে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক
অন্যদিকে দিল্লিতে তাপপ্রবাহের পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নিয়েছে। সেখানে ১১ মে থেকে গরমের ছুটি শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। মোট প্রায় ৫০ দিন স্কুল বন্ধ থাকতে পারে বলে জানা যাচ্ছে। ইতিমধ্যেই একাধিক জেলায় জারি হয়েছে হলুদ সতর্কতা। বর্তমানে দিল্লির বিভিন্ন স্কুলে ‘ওয়াটার বেল’ চালু করা হয়েছে, যাতে পড়ুয়ারা নির্দিষ্ট সময় অন্তর জল খেতে পারে। রাজধানীর তাপমাত্রা ইতিমধ্যেই ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছুঁয়েছে। আবহাওয়া আরও খারাপ হলে ছুটির দিন এগিয়ে আনার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ওড়িশায় ইতিমধ্যেই শুরু ছুটি
ওড়িশা সরকারও গরমের কারণে আগেভাগেই স্কুল বন্ধের ঘোষণা করেছে। ২৭ এপ্রিল থেকেই রাজ্যের সমস্ত সরকারি, সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত ও বেসরকারি বিদ্যালয়ে গ্রীষ্মকালীন ছুটি শুরু হয়েছে। সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, স্কুলে পঠনপাঠন বন্ধ থাকলেও পূর্বনির্ধারিত পরীক্ষা এবং প্রশাসনিক কাজ নির্ধারিত নিয়মেই চলবে।
বাংলায় এখনও নেই সরকারি ঘোষণা
এদিকে পশ্চিমবঙ্গে এখনও পর্যন্ত গরমের ছুটি নিয়ে কোনও সরকারি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হয়নি। যদিও কয়েকদিন ধরেই শোনা যাচ্ছিল ২৭ এপ্রিল থেকে স্কুলে ছুটি পড়তে পারে। কিন্তু শিক্ষা দফতরের তরফে এখনও কোনও চূড়ান্ত ঘোষণা করা হয়নি। তবে ভোটের কারণে চলতি সপ্তাহে একাধিক দিন স্কুল বন্ধ থাকছে। ফলে অনেক পড়ুয়ার কাছেই কার্যত ছুটির আবহ তৈরি হয়েছে। এখন শিক্ষা দফতরের পরবর্তী ঘোষণার দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন অভিভাবক ও শিক্ষকরা।










