হাতে আর মাত্র কয়েকদিন সময়। তারপরই একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ না করলে সরকারি বিমা সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন বহু মানুষ। প্রধানমন্ত্রী জীবন জ্যোতি বীমা যোজনা (PMJJBY)-র প্রিমিয়াম জমা দেওয়ার শেষ দিন ৩১ মে ২০২৬। মাত্র ৪৩৬ টাকার বিনিময়ে বছরে ২ লক্ষ টাকার জীবন বিমার সুবিধা পাওয়া যায় এই প্রকল্পে।
৩১ মে-র আগে প্রিমিয়াম জমা জরুরি
প্রধানমন্ত্রী জীবন জ্যোতি বীমা যোজনা কেন্দ্র সরকারের একটি স্বল্পমূল্যের জীবন বিমা প্রকল্প। ২০১৫ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উদ্যোগে এই প্রকল্প চালু হয়। মূল উদ্দেশ্য ছিল দেশের সাধারণ মানুষের জন্য কম খরচে জীবন বিমার সুরক্ষা নিশ্চিত করা। এই প্রকল্পে বছরে একবার মাত্র ৪৩৬ টাকা প্রিমিয়াম জমা দিতে হয়। সাধারণত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই টাকা কেটে নেওয়া হয়। প্রতি বছর ১ জুন থেকে পরবর্তী বছরের ৩১ মে পর্যন্ত বিমার কভারেজ কার্যকর থাকে। তাই ৩১ মে-র আগেই অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত টাকা রাখা জরুরি।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ইতিমধ্যেই দেশের কোটি কোটি মানুষ এই প্রকল্পের আওতায় এসেছেন। পলিসিধারীর মৃত্যু হলে তাঁর পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। কম প্রিমিয়ামে এত বড় কভারেজ পাওয়ার কারণে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে এই প্রকল্পের জনপ্রিয়তা দ্রুত বেড়েছে।
কারা আবেদন করতে পারবেন?
প্রধানমন্ত্রী জীবন জ্যোতি বীমা যোজনায় ১৮ থেকে ৫০ বছর বয়সী যে কোনও ভারতীয় নাগরিক আবেদন করতে পারেন। আবেদনকারীর একটি সক্রিয় সেভিংস ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থাকা বাধ্যতামূলক। একই সঙ্গে অটো-ডেবিটের অনুমতি দিতে হয়, যাতে নির্দিষ্ট সময়ে ব্যাঙ্ক থেকেই প্রিমিয়ামের টাকা কেটে নেওয়া যায়। একবার এই প্রকল্পে যুক্ত হলে ৫৫ বছর বয়স পর্যন্ত বিমার সুবিধা পাওয়া যায়। পলিসিধারীর স্বাভাবিক বা অন্য কোনও কারণে মৃত্যু হলেও পরিবারের সদস্যরা বিমার অর্থ দাবি করতে পারেন।
২০ টাকায় মিলছে দুর্ঘটনা বিমার সুবিধাও
কেন্দ্র সরকার প্রধানমন্ত্রী সুরক্ষা বীমা যোজনা (PMSBY) নামের আরও একটি বিমা প্রকল্প চালু করেছে। এই প্রকল্পে বছরে মাত্র ২০ টাকা প্রিমিয়াম জমা দিয়ে ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত দুর্ঘটনা বিমার সুবিধা পাওয়া যায়। দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু বা স্থায়ী অক্ষমতার ক্ষেত্রে এই বিমার সুবিধা দেওয়া হয়। অনেকেই দুটি প্রকল্পেই একসঙ্গে নাম নথিভুক্ত করেন, যাতে খুব কম খরচে জীবন ও দুর্ঘটনা— দুই ধরনের বিমা সুরক্ষা পাওয়া যায়।
দেরি করলে কী সমস্যা হতে পারে?
৩১ মে-র মধ্যে প্রিমিয়াম জমা না হলে বিমার কভারেজ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। পরে আবার প্রকল্পে যোগ দেওয়া গেলেও তা নির্দিষ্ট সময় অনুযায়ী আনুপাতিক হারে কার্যকর হয়। অর্থাৎ বছরের মাঝামাঝি সময়ে যোগ দিলে পূর্ণ মেয়াদের সুবিধা মিলবে না। এছাড়া দেরিতে পলিসি নেওয়া হলে রিনিউয়ের সময়ও আলাদা হতে পারে। ফলে নিরবচ্ছিন্ন বিমা কভারেজ বজায় রাখতে সময়মতো প্রিমিয়াম জমা দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।










