আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা এবং ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার জেরে ফের বড় ধাক্কার মুখে ভারতীয় মুদ্রা। সোমবার বাজার খুলতেই মার্কিন ডলারের বিপরীতে ভারতীয় রুপি (Indian Rupee) সর্বকালের সর্বনিম্ন স্তরে পৌঁছে যায়। দিনের শুরুতেই ডলারের তুলনায় রুপির দাম নেমে দাঁড়ায় ৯৬.৩০ টাকায়। গত সপ্তাহের ধাক্কা সামলানোর আগেই নতুন করে পতনের জেরে উদ্বেগ বাড়ছে অর্থনৈতিক মহলে।
আরও দুর্বল হল ভারতীয় টাকা
বিশ্ববাজারে ক্রমবর্ধমান অনিশ্চয়তার মধ্যে ভারতীয় মুদ্রার উপর চাপ ক্রমশ বেড়েই চলেছে। গত সপ্তাহে প্রথমবার ৯৬ টাকার গণ্ডি পার করার পর সোমবার আরও পতনের মুখে পড়ে রুপি। বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে ভারতীয় মুদ্রার মূল্য প্রায় ৫.৫ শতাংশ কমেছে। এর ফলে দেশের আমদানি ব্যয় এবং সামগ্রিক অর্থনীতির উপর বড় প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
কেন পড়ছে টাকার দাম?
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই রেকর্ড পতনের পিছনে একাধিক আন্তর্জাতিক কারণ কাজ করছে।
প্রথমত, সংযুক্ত আরব আমিরশাহির একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে হামলার খবর সামনে আসার পর আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম দ্রুত বেড়ে যায়। ব্যারেল প্রতি তেলের দাম ১০৭ ডলার থেকে বেড়ে ১১১ ডলারে পৌঁছেছে। ভারত যেহেতু বিপুল পরিমাণ তেল আমদানি করে, তাই অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়লেই ভারতীয় মুদ্রার উপর চাপ বাড়ে।
দ্বিতীয়ত, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে ঘিরে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দেওয়ায় বিশ্ববাজারে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে ডলারের চাহিদা বাড়ছে। ফলে অন্যান্য মুদ্রার মতো ভারতীয় টাকার মূল্যও কমছে।
তৃতীয়ত, ভারতের বাণিজ্য ঘাটতি বৃদ্ধি এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের পুঁজি তুলে নেওয়ার প্রবণতা ভারতীয় বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। আন্তর্জাতিক বাজার থেকে বিনিয়োগ কমে যাওয়ায় টাকার উপর চাপ আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বাড়বে সাধারণ মানুষের খরচ
টাকার এই বড় পতনের সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে। কারণ বিদেশ থেকে পণ্য বা কাঁচামাল আমদানি করতে এখন আগের তুলনায় বেশি টাকা খরচ করতে হবে। এর ফলে ধীরে ধীরে বাড়তে পারে বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম।
বিশেষ করে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পেলে পরিবহণ ব্যয়ও বাড়বে। তার প্রভাব পড়বে বাজারের প্রায় সব পণ্যের উপরেই। ফলে আগামী দিনে মূল্যবৃদ্ধির চাপ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অর্থনৈতিক মহলের একাংশ।









