রাজ্যের সরকারি ও সরকারপোষিত স্কুলগুলিতে ছাত্রছাত্রীদের জন্য সরবরাহ করা ইউনিফর্মের গুণমান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বিভিন্ন জেলায় নিম্নমানের কাপড়, ভুল মাপের পোশাক এবং নির্ধারিত সময়ে ইউনিফর্ম না পৌঁছানোর অভিযোগ সামনে আসার পর প্রশাসনিক স্তরে বিষয়টি খতিয়ে দেখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দফতরের কাছে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট তলব করা হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।
সরকারি প্রকল্পের আওতায় বহু বছর ধরেই ছাত্রছাত্রীদের বিনামূল্যে ইউনিফর্ম সরবরাহ করা হয়। এই পোশাক তৈরির দায়িত্ব অনেক ক্ষেত্রে স্বনির্ভর গোষ্ঠী বা অনুমোদিত সংস্থার হাতে থাকে। অভিযোগ, কিছু ক্ষেত্রে ব্যবহৃত কাপড়ের মান প্রত্যাশার তুলনায় কম ছিল। পাশাপাশি একাধিক স্কুলে মাপের অসঙ্গতি এবং সরবরাহে দেরির বিষয়ও সামনে এসেছে। শিক্ষক ও অভিভাবকদের একাংশের দাবি, নিম্নমানের ইউনিফর্ম দ্রুত নষ্ট হয়ে যাওয়ায় পড়ুয়াদের সমস্যায় পড়তে হয়েছে। কিছু স্কুলে পোশাক ছোট বা বড় হওয়ায় ব্যবহারযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ফলে সরকারি অর্থ ব্যয়ের পরও পরিষেবার মান নিয়ে অসন্তোষ বাড়ছে।
প্রশাসনিক বৈঠকে এই বিষয়টি নিয়ে উচ্চপর্যায়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ইউনিফর্ম তৈরির ক্ষেত্রে নির্ধারিত মানদণ্ড যথাযথভাবে মানা হয়েছে কি না, তা যাচাই করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আর্থিক বরাদ্দ ও অনুমোদনের ক্ষেত্রে কোনও গাফিলতি ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি প্রকল্পে গুণমান নিয়ন্ত্রণ এবং সরবরাহ ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। শিক্ষা সংক্রান্ত প্রকল্পে নিম্নমানের সামগ্রী সরবরাহের অভিযোগ দীর্ঘমেয়াদে প্রশাসনের বিশ্বাসযোগ্যতার উপর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই রিপোর্টের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
প্রশাসনের তরফে স্পষ্ট বার্তা, যদি নির্ধারিত নিয়ম বা প্রোটোকল মানা না হয়ে থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট সংস্থা বা দায়িত্বপ্রাপ্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট জমা পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এদিকে বিরোধী মহল ও শিক্ষামহলেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। সরকারি অর্থ ব্যয়ের স্বচ্ছতা, সরবরাহের মান এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের পদ্ধতি— এই তিনটি দিক এখন বিশেষভাবে নজরে রয়েছে। রিপোর্ট প্রকাশের পরই পরিষ্কার হবে অভিযোগ কতটা বাস্তব এবং কোথায় প্রশাসনিক ত্রুটি হয়েছে।








