স্কুল পড়ুয়াদের পুষ্টির কথা মাথায় রেখে বড় সিদ্ধান্ত নিল তেলেঙ্গানা সরকার। এতদিন স্কুলে শুধুমাত্র মিড ডে মিল বা মধ্যাহ্নভোজের ব্যবস্থা থাকলেও এবার থেকে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়াদের জন্য সকালের খাবার বা ব্রেকফাস্টও দেওয়া হবে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ১২ জুন থেকে এই প্রকল্প আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হবে। সরকারি ও সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলে অধ্যয়নরত উচ্চমাধ্যমিক স্তরের ছাত্রছাত্রীদের জন্য এই উদ্যোগ শুরু করা হচ্ছে। এর ফলে দেশের প্রথম রাজ্য হিসেবে তেলেঙ্গানা একইসঙ্গে ব্রেকফাস্ট এবং মধ্যাহ্নভোজ দেওয়ার নজির গড়তে চলেছে।
১২ জুন উদ্বোধন করবেন মুখ্যমন্ত্রী
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী A. Revanth Reddy আগামী ১২ জুন এই প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। শিক্ষার্থীদের পুষ্টির ঘাটতি দূর করতে এবং স্কুলে উপস্থিতি বাড়াতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, পর্যাপ্ত পুষ্টি নিশ্চিত করার জন্য এই কর্মসূচির রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে। এতে আর্থিকভাবে দুর্বল পরিবারের বহু ছাত্রছাত্রী সরাসরি উপকৃত হবে বলে মনে করছে সরকার।
সকালের মেনুতে কী কী থাকবে?
সরকারের প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, ব্রেকফাস্টের মেনুতে থাকবে—
- ধোসা
- মিলেট ইডলি ও সাম্বার
- পুরি ও সবজি
- বোন্ডা ও চাটনি
- উপমা ও চাটনি
- একদিন অন্তর ১৫০ মিলিলিটার দুধ
পুষ্টিগুণ বজায় রাখার জন্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মেনেই এই খাদ্যতালিকা তৈরি করা হয়েছে।
উপকৃত হবে প্রায় ২ লক্ষ পড়ুয়া
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ১.৯২ লক্ষ একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রছাত্রী উপকৃত হবে। প্রকল্প চালুর প্রথম দিনেই প্রায় ৪১ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী এতে অংশ নিতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। গরমের ছুটির পর স্কুলে উপস্থিতি স্বাভাবিক হলে প্রতিদিন প্রায় দুই লক্ষ পড়ুয়াকে সকালের খাবার এবং মধ্যাহ্নভোজ প্রদান করা হবে।
কত টাকা খরচ করবে সরকার?
তেলেঙ্গানা সরকার এই নতুন প্রাতঃরাশ প্রকল্পের জন্য প্রায় ৮০ কোটি টাকা বরাদ্দ করার পরিকল্পনা করেছে। পাশাপাশি উচ্চমাধ্যমিক স্তরের পড়ুয়াদের মধ্যাহ্নভোজ প্রকল্প পরিচালনার জন্য আরও ১০০ কোটি টাকা খরচ করা হবে বলে জানা গিয়েছে। সরকারের মতে, শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ও শিক্ষার উন্নতির জন্য এই বিনিয়োগ দীর্ঘমেয়াদে ইতিবাচক ফল দেবে।








