গঙ্গাসাগরগামী লক্ষ লক্ষ তীর্থযাত্রীর জন্য বড় সুখবর। বহু বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে গঙ্গাসাগর পর্যন্ত সরাসরি রেল সংযোগ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জোরালো ইঙ্গিত মিলেছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে কলকাতা ও রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে গঙ্গাসাগরে পৌঁছনো অনেক সহজ হয়ে যাবে। বর্তমানে গঙ্গাসাগরে যেতে হলে যাত্রীদের প্রথমে ট্রেনে করে কাকদ্বীপ বা নামখানা পৌঁছতে হয়। এরপর সড়কপথে জেটি ঘাটে গিয়ে লঞ্চ বা ভেসেলে মুড়িগঙ্গা নদী পার হতে হয়। তারপর আবার গাড়িতে করে গন্তব্যে পৌঁছাতে হয়। এই দীর্ঘ ও জটিল যাত্রাপথে বিশেষ করে বয়স্ক তীর্থযাত্রীদের বেশ ভোগান্তি পোহাতে হয়।
সরাসরি রেল সংযোগের সম্ভাবনা
নবান্নে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে বাংলার একাধিক রেল প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হয়। সেই বৈঠকের পর গঙ্গাসাগরকে সরাসরি রেল মানচিত্রের সঙ্গে যুক্ত করার সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদী মহল। সূত্রের খবর, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে গঙ্গাসাগর পর্যন্ত রেল যোগাযোগ সম্প্রসারণের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে যাত্রীদের আর মাঝপথে যানবাহন পরিবর্তন করতে হবে না এবং ভ্রমণ অনেক সহজ হবে।
বাংলায় রেল উন্নয়নে বড় বিনিয়োগ
বৈঠকে জানানো হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের রেল পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য প্রায় ১ লক্ষ কোটি টাকার বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। এই অর্থ বিভিন্ন নতুন রেলপথ, স্টেশন আধুনিকীকরণ এবং পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজে ব্যয় করা হবে। এছাড়াও রাজ্যের ১০২টি স্টেশনকে অমৃত ভারত স্টেশন প্রকল্পের আওতায় আধুনিক রূপ দেওয়ার কাজ চলছে। ইতিমধ্যেই কয়েকটি স্টেশনের উন্নয়নের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
আরও কী কী ঘোষণা হয়েছে?
রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যে ৫৩৮টি আন্ডারপাস ও ফ্লাইওভার নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে। পাশাপাশি কাঁচরাপাড়া ও হাওড়ার রেল কারখানার আধুনিকীকরণ, নতুন মেট্রো রেক সংযোজন এবং একাধিক নতুন রেল প্রকল্প বাস্তবায়নের কথাও জানানো হয়েছে। এছাড়া দিল্লি থেকে শিলিগুড়ি পর্যন্ত দ্রুতগতির রেল পরিষেবা চালুর সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে খবর।
কবে চালু হবে?
বর্তমানে গঙ্গাসাগর পর্যন্ত সরাসরি রেল সংযোগের বিষয়ে কোনও নির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণা করা হয়নি। তবে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দিকে ইতিবাচক পদক্ষেপ শুরু হয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে, গঙ্গাসাগরকে সরাসরি রেল নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে তা শুধু তীর্থযাত্রীদের জন্য নয়, দক্ষিণ ২৪ পরগনার সামগ্রিক উন্নয়নের ক্ষেত্রেও বড় ভূমিকা পালন করতে পারে।








