পাহাড়প্রেমী পর্যটকদের জন্য বড় সুখবর। কলকাতা থেকে হিমাচল প্রদেশে যাতায়াত আরও সহজ করতে চালু হল নতুন ট্রেন পরিষেবা। শনিবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে গুরুমুখী সুপারফাস্ট এক্সপ্রেস, যা কলকাতা এবং হিমাচল প্রদেশের আম্ব-আন্দাউরার মধ্যে চলাচল করবে। এই নতুন ট্রেন পরিষেবা চালু হওয়ার ফলে হিমাচল প্রদেশের বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্র, বিশেষ করে শিমলা, মানালি এবং পার্শ্ববর্তী এলাকায় পৌঁছনো আরও সুবিধাজনক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নতুন ট্রেন পরিষেবার সূচনা
শনিবার সকালে আম্ব-আন্দাউরা রেল স্টেশন থেকে ট্রেনটির উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হামিরপুরের সাংসদ অনুরাগ সিং ঠাকুরসহ রেল আধিকারিক ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। রেল কর্তৃপক্ষের মতে, এই ট্রেন চালু হওয়ার ফলে হিমাচল প্রদেশ এবং পূর্ব ভারতের মধ্যে যোগাযোগ আরও মজবুত হবে। একইসঙ্গে পর্যটন, শিক্ষা, ব্যবসা এবং ধর্মীয় যাতায়াতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
ট্রেনের সময়সূচি
আম্ব-আন্দাউরা থেকে কলকাতা
- প্রতি শনিবার সকাল ৬:১০ মিনিটে যাত্রা শুরু করবে।
- প্রায় ৩১ ঘণ্টা ৫০ মিনিট পর কলকাতায় পৌঁছাবে।
কলকাতা থেকে আম্ব-আন্দাউরা
- প্রতি বৃহস্পতিবার সকাল ৭:৪০ মিনিটে ছাড়বে।
- শুক্রবার বিকেল ৪:৫৫ মিনিটে গন্তব্যে পৌঁছাবে।
কোন কোন স্টেশনে থামবে?
গুরুমুখী সুপারফাস্ট এক্সপ্রেস দেশের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনের উপর দিয়ে চলবে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য—
- আসানসোল
- পাটনা জংশন
- পণ্ডিত দীন দয়াল উপাধ্যায় জংশন
- বারাণসী
- লখনউ
- বরেলি
- মোরাদাবাদ
- সাহারানপুর
ফলে পূর্ব ভারত থেকে উত্তর ভারতের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহরে যাতায়াতও সহজ হবে।
পর্যটকদের জন্য বড় সুবিধা
কলকাতা এবং পশ্চিমবঙ্গের বহু মানুষ প্রতি বছর শিমলা, মানালি, ধর্মশালা ও হিমাচলের অন্যান্য পর্যটন কেন্দ্রে ভ্রমণ করেন। নতুন এই ট্রেন পরিষেবা চালু হওয়ায় যাত্রীরা আরও সহজে হিমাচল প্রদেশে পৌঁছতে পারবেন। বিশেষ করে ট্রেনের টিকিটের অভাব বা দীর্ঘ যাত্রাপথের সমস্যায় যারা ভুগতেন, তাঁদের জন্য এই পরিষেবা বড় স্বস্তি নিয়ে এসেছে।
ভবিষ্যতে আরও রেল পরিষেবার পরিকল্পনা
রেল ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভবিষ্যতে উনা থেকে আম্বালা ও চণ্ডীগড়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরের উদ্দেশেও নতুন ট্রেন পরিষেবা চালুর চেষ্টা করা হবে। সব মিলিয়ে, গুরুমুখী সুপারফাস্ট এক্সপ্রেস চালু হওয়ায় কলকাতা ও হিমাচলের মধ্যে রেল যোগাযোগে নতুন অধ্যায় শুরু হল বলে মনে করছেন পর্যটন ও রেল বিশেষজ্ঞরা।








