Trending NewsAppleNYT GamesCelebrity NewsWordle tipsBig 12 SoccerCelebrity BreakupsKeith UrbanUnited Nations Day

বুলেট ট্রেন প্রকল্পে গতি! রেলের ‘মিশন মোড’-এ দ্রুত গতিতে চলছে কাজ

Updated :  Saturday, April 25, 2026 12:34 AM

কবে ছুটবে বুলেট ট্রেন? এখন দেশের বেশিরভাগ মানুষের মনে এই একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। সময় যত এগোচ্ছে, ততই এই প্রকল্প নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। এদিকে রেল মন্ত্রকও বসে নেই। দ্রুতগতির রেল পরিষেবা চালু করতে এবার ‘মিশন মোড’-এ কাজ শুরু করেছে ভারতীয় রেল। এই উদ্যোগকে ঘিরে নতুন করে আশার আলো দেখছেন যাত্রীরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ এগোলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই বড় অগ্রগতি দেখা যেতে পারে। ফলে বুলেট ট্রেন এখন আর শুধুই স্বপ্ন নয়, বাস্তবের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে।

‘মিশন মোড’-এ রেলের নতুন পরিকল্পনা

ভারতীয় রেল তার দ্রুতগতির রেল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের জন্য একটি নতুন কৌশল গ্রহণ করেছে। এই ‘মিশন মোড’-এর মূল লক্ষ্য হল ভবিষ্যতের বুলেট ট্রেন প্রকল্পগুলির কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা। এই কৌশলের অধীনে, কেন্দ্রীয়, রাজ্য এবং স্থানীয় সরকারের কাছ থেকে সমস্ত প্রয়োজনীয় অনুমোদন একত্রে নেওয়া হবে। ফলে জমি অধিগ্রহণ এবং প্রশাসনিক জটিলতা অনেকটাই কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই উদ্যোগটি রেলের প্রায় ২.৭৮ লক্ষ কোটি টাকার বাজেটের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

মুম্বই-আহমেদাবাদ প্রকল্প থেকে শিক্ষা

রেলের এই নতুন পরিকল্পনা মূলত মুম্বই-আহমেদাবাদ হাই-স্পিড রেল করিডোরের অভিজ্ঞতার উপর ভিত্তি করে তৈরি। দেশের প্রথম বুলেট ট্রেন প্রকল্প হিসেবে এটি বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছিল। এই প্রকল্পের খরচ প্রায় ৮৩% বেড়ে ১.১ লক্ষ কোটি টাকা থেকে ১.৯৮ লক্ষ কোটি টাকায় পৌঁছে যায়। ফলে ভবিষ্যতের প্রকল্পগুলিতে খরচ নিয়ন্ত্রণ এবং দক্ষতা বাড়ানোর দিকে বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে।

আধুনিক প্রযুক্তিতে বাড়বে গতি

নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, ট্রেনের কোচ, সিগন্যালিং সিস্টেম এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশের সরবরাহ শৃঙ্খল আরও শক্তিশালী করা হবে। এর ফলে বৃহৎ পরিসরে উৎপাদন সম্ভব হবে। এছাড়াও, নির্মাণকাজে প্রি-কাস্ট প্রযুক্তি এবং মডিউলার নির্মাণ পদ্ধতি ব্যবহার করে কাজের গতি বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

পাইপলাইনে ৭টি হাই-স্পিড করিডোর

সরকার দেশজুড়ে সাতটি নতুন দ্রুতগতির রেল করিডোর তৈরির পরিকল্পনা করছে। এর মধ্যে রয়েছে মুম্বই-পুনে, পুনে-হায়দ্রাবাদ, হায়দ্রাবাদ-বেঙ্গালুরু, হায়দ্রাবাদ-চেন্নাই, চেন্নাই-বেঙ্গালুরু, দিল্লি-বারাণসী এবং বারাণসী-শিলিগুড়ি রুট। এই প্রকল্পগুলির মোট ব্যয় আনুমানিক ১৬ লক্ষ কোটি টাকা ধরা হয়েছে। প্রায় ৪,৬৪৭ মাইল দীর্ঘ এই নেটওয়ার্ক ভবিষ্যতে দেশের যাতায়াত ব্যবস্থায় বিপ্লব আনতে পারে।

ভ্রমণ ও অর্থনীতিতে বড় প্রভাব

নতুন এই হাই-স্পিড রেল করিডোরগুলি চালু হলে একদিকে যেমন ভ্রমণের সময় কমবে, তেমনই দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নেও বড় ভূমিকা নেবে। বিশেষ করে বড় শহরগুলির মধ্যে যোগাযোগ আরও দ্রুত ও সহজ হওয়ায় ব্যবসা-বাণিজ্য এবং কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও নতুন সুযোগ তৈরি হবে। এতে পর্যটন শিল্পেও বড় উত্থান দেখা যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ফলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে সংযোগ আরও শক্তিশালী হবে।