মে মাসের শুরুতেই জ্বালানি বাজারে বড়সড় ধাক্কা। বাণিজ্যিক গ্যাসের এই হঠাৎ মূল্যবৃদ্ধি নতুন করে চিন্তা বাড়াল ব্যবসায়ীদের মধ্যে। এই সিদ্ধান্তে বাজারে নতুন করে মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা বাড়ছে বলে মত অর্থনৈতিক মহলের। বিশেষ করে খাদ্য পরিষেবার খরচ বাড়ার ইঙ্গিত ইতিমধ্যেই মিলতে শুরু করেছে। এক ধাক্কায় ৯৯৪ টাকা বেড়ে গেল বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের দাম। এর ফলে কলকাতায় ১৯ কেজির বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের নতুন দাম দাঁড়াল ৩২০২ টাকা। মধ্য এশিয়ার সঙ্কটের আবহে বড়সড় ধাক্কা এল বাণিজ্যিক রান্নার গ্যাসের দামে।
মূল্যবৃদ্ধির ধারাবাহিকতা
গত কয়েক মাস ধরেই জ্বালানির দামে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছিল। আন্তর্জাতিক বাজারের ওঠানামা সরাসরি প্রভাব ফেলেছে দেশের বাণিজ্যিক গ্যাসের উপর। ক্রমাগত মূল্যবৃদ্ধির এই ধারা নতুন নয়। জানুয়ারি মাসে ৪৯ টাকা ৫০ পয়সা, ফেব্রুয়ারিতে ৩১ টাকা, মার্চে ১১৪ টাকা ৫০ পয়সা এবং এপ্রিল মাসে ২১৮ টাকা দাম বাড়ানো হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতারই চূড়ান্ত রূপ হিসেবে মে মাসের শুরুতেই এই বিপুল বৃদ্ধি কার্যকর হল।
কোন কোন ক্ষেত্রে প্রভাব পড়বে?
এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে পরিষেবা খাতে খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের উপর চাপ আরও বাড়তে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মূল্যবৃদ্ধির সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়বে হোটেল, রেস্তরাঁ, ক্যাটারিং এবং রাস্তার খাবারের ব্যবসার উপর। কারণ, এই ক্ষেত্রগুলিতে বাণিজ্যিক গ্যাসই প্রধান জ্বালানি। ফলে অনেক ব্যবসায়ী বাধ্য হয়ে খাবারের দাম বাড়াতে পারেন, যার প্রভাব সরাসরি পড়বে সাধারণ মানুষের পকেটে।
গৃহস্থালির গ্যাসে স্বস্তি
অন্য দিকে, স্বস্তির খবর একটাই— গৃহস্থালির রান্নার গ্যাসের দামে আপাতত কোনও পরিবর্তন করা হয়নি। কলকাতায় গৃহস্থের এলপিজি সিলিন্ডারের দাম এখনও ৯৩৯ টাকাতেই স্থির রয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা এবং সরবরাহজনিত চাপ অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে গৃহস্থালির গ্যাসের দামও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকে। সব মিলিয়ে জ্বালানি মূল্যের এই ঊর্ধ্বগতি আগামী দিনে আরও আর্থিক চাপ তৈরি করতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।












