ভারতের রেল পরিষেবায় শুরু হতে চলেছে এক নতুন যুগ। বহু প্রতীক্ষার পর সামনে এল দেশের প্রথম হাইড্রোজেন চালিত ট্রেনের ফার্স্ট লুক। পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির দিকে বড় পদক্ষেপ হিসেবে এই উদ্যোগকে দেখছে বিশেষজ্ঞরা।
কোথায় চলবে এই ট্রেন?
রেল সূত্রে জানা গেছে, হরিয়ানার জিন্দ-সোনিপত রুটে এই হাইড্রোজেন ট্রেন চালানো হবে। ইতিমধ্যেই ট্রায়াল রান সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং খুব শীঘ্রই যাত্রী পরিষেবা শুরু হতে পারে।
কেমন এই ট্রেন?
এই ট্রেনটি সম্পূর্ণ এসি এবং আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন। নীল রঙের বডির সঙ্গে সাদা স্ট্রাইপ থাকায় এর ডিজাইনও বেশ আকর্ষণীয়। সবচেয়ে বড় কথা, এটি সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব—চলাকালীন কোনও ধোঁয়া নির্গত হয় না, বরং শুধুমাত্র জলীয় বাষ্প বের হয়।
গতি ও ক্ষমতা
- সর্বোচ্চ গতি: ১৪০ কিমি/ঘণ্টা
- কার্যকর গতি: প্রায় ১১০ কিমি/ঘণ্টা
- কামরা: ১০টি
- যাত্রী ধারণক্ষমতা: প্রায় ২৫০০
এই ট্রেনে রয়েছে ২৪০০ কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন হাইড্রোজেন ইঞ্জিন, যা একে অত্যন্ত শক্তিশালী ও কার্যকর করে তুলেছে।
জ্বালানি খরচ কত?
রেল সূত্রে জানা গেছে, এই ট্রেন ৩৬০ কেজি হাইড্রোজেন ব্যবহার করে প্রায় ১৮০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে পারে। অর্থাৎ প্রতি কিলোমিটারে গড়ে প্রায় ২ কেজি জ্বালানি প্রয়োজন হয়।
কোথায় তৈরি হয়েছে?
চেন্নাইয়ের ইন্টিগ্রাল কোচ ফ্যাক্টরিতে সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি হয়েছে এই ট্রেন। এটি তৈরি করতে খরচ হয়েছে প্রায় ৮০–৮২ কোটি টাকা।
কেন এত গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্প?
ডিজেল ট্রেনের বিকল্প হিসেবে হাইড্রোজেন ট্রেন পরিবেশ দূষণ অনেকটাই কমাবে। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে ভারতীয় রেলকে আরও টেকসই ও আধুনিক করে তুলবে এই প্রযুক্তি।
সব মিলিয়ে, দেশের প্রথম হাইড্রোজেন ট্রেন শুধু একটি নতুন পরিষেবা নয়—এটি ভারতীয় রেলের ভবিষ্যতের দিশা দেখাচ্ছে। খুব শীঘ্রই যাত্রীরা এই আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব ট্রেনে চড়ার সুযোগ পাবেন।










