প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করতে বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে ভারত। আগামী সপ্তাহে ভারতে আসছেন ভিয়েতনামের রাষ্ট্রপতি তো লাম (Tô Lâm)। কূটনৈতিক সূত্রে খবর, এই সফরেই দুই দেশের মধ্যে প্রায় ৫৮০০ কোটি টাকার ব্রহ্মোস মিসাইল চুক্তি চূড়ান্ত হতে পারে।
কেন গুরুত্বপূর্ণ এই সফর?
তো লাম বর্তমানে ভিয়েতনামের অন্যতম শক্তিশালী নেতা। রাষ্ট্রপতির পাশাপাশি তিনি কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদকও। চিন সফরের পর তাঁর ভারত সফর আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সফর ভারত-ভিয়েতনাম সম্পর্ককে আরও মজবুত করবে এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ভারতের কৌশলগত অবস্থানকে শক্তিশালী করবে।
ব্রহ্মোস চুক্তি নিয়ে কী জানা যাচ্ছে?
প্রস্তাবিত এই চুক্তিতে ব্রহ্মোস মিসাইলের অ্যান্টি-শিপ ভার্সন অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। এই মিসাইল ভিয়েতনামের সামুদ্রিক নিরাপত্তা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিশেষ করে দক্ষিণ চিন সাগরে চিনের সঙ্গে চলা উত্তেজনার প্রেক্ষিতে এই চুক্তি ভিয়েতনামের জন্য বড় কৌশলগত সুবিধা এনে দিতে পারে।
রাশিয়ার অনুমতির বিষয়টি কেন গুরুত্বপূর্ণ?
ব্রহ্মোস মিসাইল ভারত ও রাশিয়ার যৌথ উদ্যোগে তৈরি। ফলে তৃতীয় কোনও দেশে এটি রপ্তানি করতে গেলে রাশিয়ার অনুমতি প্রয়োজন হয়।
রিপোর্ট অনুযায়ী, রাশিয়া এই চুক্তিকে সমর্থন করেছে। ফলে কোনও বাধা ছাড়াই ভিয়েতনামের কাছে এই মিসাইল সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
ভারতের জন্য কী লাভ?
এই চুক্তি সফল হলে ভারত প্রতিরক্ষা রপ্তানির ক্ষেত্রে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে। ইতিমধ্যেই ফিলিপিনস ব্রহ্মোস কিনেছে। এবার ভিয়েতনাম যুক্ত হলে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ভারতের প্রভাব আরও বাড়বে।
একইসঙ্গে অন্যান্য দেশ যেমন সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, থাইল্যান্ড, ওমান ও মিশরও এই মিসাইল কিনতে আগ্রহ দেখাচ্ছে।
সব মিলিয়ে, এই সম্ভাব্য ব্রহ্মোস চুক্তি শুধু একটি প্রতিরক্ষা ডিল নয়—এটি আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ভারতের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করার বড় পদক্ষেপ হতে পারে। এখন নজর তো লামের ভারত সফরের দিকে, যেখানে এই ঐতিহাসিক চুক্তির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হতে পারে।










