কলকাতা মেট্রোর সম্প্রসারণে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় থাকা জোকা-ডায়মন্ড হারবার পার্ক মেট্রো প্রকল্প এবার নতুন করে গতি পেতে চলেছে। রেল কর্তৃপক্ষের তরফে জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি হওয়ার পর এই প্রকল্প নিয়ে আশাবাদী যাত্রী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। এই মেট্রো রুট চালু হলে দক্ষিণ কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকার যাতায়াত ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
জমি অধিগ্রহণের বিজ্ঞপ্তি জারি
প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, জোকা থেকে ডায়মন্ড হারবার পার্ক পর্যন্ত মেট্রো সম্প্রসারণের জন্য মোট ৫,৮৭১ বর্গমিটার জমি অধিগ্রহণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই জমি মূলত জোকা, হাঁসপুকুরিয়া এবং সারমাস্টারচক এলাকার বিভিন্ন অংশ থেকে নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
কোথায় দেখা যাবে প্রকল্পের মানচিত্র?
প্রকল্প সংক্রান্ত অ্যালাইনমেন্ট ম্যাপ এবং অন্যান্য নথি নির্দিষ্ট দপ্তরে সংরক্ষিত রয়েছে। সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দারা চাইলে নির্ধারিত অফিসে গিয়ে প্রকল্পের বিস্তারিত মানচিত্র পর্যালোচনা করতে পারবেন। এর ফলে জমির মালিক এবং সাধারণ মানুষ প্রকল্পের সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পেতে পারবেন।
আপত্তি জানানোর সুযোগ
বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে জমির মালিকরা তাঁদের আপত্তি বা মতামত লিখিতভাবে জানাতে পারবেন। রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জমি অধিগ্রহণ নিয়ে কোনও অভিযোগ বা আপত্তি থাকলে তা বিবেচনা করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য শোনার সুযোগও দেওয়া হবে।
কেন গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্প?
জোকা মেট্রো করিডর দীর্ঘদিন ধরেই কলকাতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিবহণ প্রকল্প হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। ভবিষ্যতে এই রুট ডায়মন্ড হারবার পার্ক পর্যন্ত সম্প্রসারিত হলে দক্ষিণ শহরতলি ও আশপাশের এলাকার যাত্রীদের যাতায়াত অনেকটাই সহজ হবে। বর্তমানে যেসব যাত্রীকে দীর্ঘ সময় সড়কপথে যাতায়াত করতে হয়, তাঁদের জন্য মেট্রো একটি দ্রুত ও আরামদায়ক বিকল্প হয়ে উঠতে পারে।
কবে শেষ হবে কাজ?
প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণ ও অন্যান্য প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার পর নির্মাণকাজ আরও দ্রুত এগোবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে পুরো প্রকল্প সম্পন্ন হতে এখনও কিছুটা সময় লাগতে পারে। তবুও দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর জোকা-ডায়মন্ড হারবার পার্ক মেট্রো প্রকল্পে অগ্রগতির খবর যাত্রীদের কাছে বড় স্বস্তির বিষয় হয়ে উঠেছে।










