রেশন ব্যবস্থায় দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিলেন নতুন খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া। নিম্নমানের আটা ও চালের বদলে এবার উপভোক্তাদের জন্য উন্নত মানের খাদ্যশস্য নিশ্চিত করার বার্তা দিল রাজ্য সরকার। পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক রদবদলের পর খাদ্য ও সরবরাহ দফতরে বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে তিনি ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করেছেন। তাঁর দাবি, রেশন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে যে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি চলছিল, তা আর বরদাস্ত করা হবে না। সাধারণ মানুষের জন্য উন্নত মানের চাল ও গম নিশ্চিত করাই এখন দফতরের প্রধান লক্ষ্য।
এদিন খাদ্যমন্ত্রী আরও ঘোষণা করেন, এখন থেকে রেশন দোকানগুলোতে আর আটা সরবরাহ করা হবে না। পরিবর্তে উপভোক্তাদের উন্নত মানের গম দেওয়া হবে। বর্তমানে সরকারি গুদামে থাকা আটা শেষ হলেই নতুন করে আর আটা সংগ্রহ করবে না দফতর। পাশাপাশি তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, খাদ্য দফতরে এক টাকার দুর্নীতিও বরদাস্ত করা হবে না। কেউ দুর্নীতি করলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন নতুন খাদ্যমন্ত্রী।
নিম্নমানের চাল মিললে বন্ধ হবে রেশন দোকান
তিনি আরও যোগ করেন যে, জুন মাস থেকে কোনও রেশন দোকানে নিম্নমানের চাল দেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হলে সরাসরি সেই দোকানের লাইসেন্স বাতিল করে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হবে। দুর্নীতির পাশাপাশি সরকারি সুযোগ-সুবিধার অপব্যবহার রুখতেও বিশেষ পদক্ষেপ নিতে চলেছেন নতুন খাদ্যমন্ত্রী।
ভুয়ো রেশন কার্ডের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ
পরিচয়পত্র যাচাইয়ের ক্ষেত্রেও কড়াকড়ি করছেন নতুন মন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, যাঁদের কাছে ভারতের বৈধ নাগরিকত্বের প্রমাণ নেই, তাঁরা সরকারি রেশন বা কোনও সুযোগ-সুবিধা পাবেন না। মূলত ভুয়ো রেশন কার্ড বাতিলের লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ।
পাশাপাশি, পূর্বতন সরকারের আমলের খাদ্য দফতরে যে আর্থিক দুর্নীতির পাহাড়প্রমাণ অভিযোগ উঠেছিল, সেই ফাইলও ফের খুলতে চলেছেন অশোক কীর্তনিয়া। তিনি জানিয়েছেন, আগের মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে যে সমস্ত অভিযোগ রয়েছে, সেগুলি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা হবে এবং দোষী কাউকে রেয়াত করা হবে না। দুর্নীতির এই বিশাল চক্র ভাঙতে তিনি আধিকারিকদের মাত্র এক সপ্তাহ সময় দিয়েছেন। প্রশাসনিক মহলের ধারণা, খাদ্যমন্ত্রীর এই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি সাধারণ মানুষের আস্থা ফেরাতে এবং রেশন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ফেরাতে বড় ভূমিকা নেবে।









