আর্থিক সংকটে জর্জরিত রাজ্য। প্রায় ১৪,০০০ কোটির বিশাল দেনার বোঝা মাথায় নিয়ে এবার বড় সিদ্ধান্ত নিল তেলেঙ্গানা সরকার। কর্মচারী এবং পেনশনভোগীদের বকেয়া মেটাতে এবার মন্ত্রীদের বেতনে কাঁচি চালানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসন জরুরি ভিত্তিতে আর্থিক পুনর্গঠনের পথেও হাঁটছে বলে সূত্রের খবর। সরকারি হিসেব অনুযায়ী, পেনশনভোগীদের প্রায় ৮,০০০ কোটি টাকা এবং কর্মরত কর্মচারীদের প্রায় ৬,২০০ কোটি টাকা দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া পড়ে রয়েছে। এই বকেয়ার অনেকটাই পূর্ববর্তী সরকারের সময় থেকে জমে আছে বলে জানা গেছে। দ্রুত বকেয়া মেটাতে নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়ায় প্রশাসনিক চাপও বেড়েছে যথেষ্ট।
৫০% পর্যন্ত বেতন কাটার প্রস্তাব
তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডির নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৈঠকে জানানো হয়, প্রয়োজনে মন্ত্রীদের বেতন ২৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো হতে পারে। সরকার ১০০ দিনের মধ্যে প্রায় ১৪,২০০ কোটি টাকা পরিশোধের লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে। এর মধ্যে অবসরকালীন সুবিধা বাবদ ৮,০০০ কোটি টাকা এবং কর্মচারীদের বকেয়া বাবদ ৬,২০০ কোটি টাকা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তথ্য ও জনসংযোগ মন্ত্রী পোঙ্গুলেটি শ্রীনিবাস রেড্ডি জানান, কর্মচারীদের স্বার্থে মন্ত্রীরা নিজেরাই বেতন কমাতে রাজি হয়েছেন। তিনি বলেন, প্রায় এক দশক ধরে এই বকেয়া জমে রয়েছে এবং সরকার দ্রুত তা মেটাতে বদ্ধপরিকর।
বিরাট পরিকল্পনা সরকারের
বকেয়া মেটাতে শুধু বেতন কাটাই নয়, আরও বিভিন্ন উৎস থেকে তহবিল সংগ্রহের পরিকল্পনাও করছে সরকার। এই লক্ষ্যে একটি উপ-কমিটি গঠন করা হয়েছে, যারা কর্মচারী সংগঠন, শিক্ষক ইউনিয়ন এবং পেনশনভোগীদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করবে। পাশাপাশি রাজ্যের আর্থিক ঘাটতি কমাতে ব্যয়সংকোচ নীতিও জোরদার করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। এদিকে, বকেয়া না পেয়ে পরিবহণ কর্মীদের একাংশ বিক্ষোভ এবং ধর্মঘটে সামিল হয়েছে। যদিও সরকার ইতিমধ্যেই তাদের আশ্বস্ত করেছে যে দ্রুত সমস্যার সমাধান করা হবে এবং বকেয়া পরিশোধের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা হবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসন সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলির সঙ্গে নিয়মিত বৈঠকও করছে।









