রাজ্যে শিক্ষকদের জন্য বড় সুখবর সামনে আসতে পারে খুব শীঘ্রই। দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (DA) না পাওয়ার যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল, তা এবার কিছুটা মিটতে পারে বলেই জোর জল্পনা। সূত্রের খবর, শিক্ষকদের বকেয়া ডিএ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ ফাইল ইতিমধ্যেই নবান্নে পৌঁছে গিয়েছে। এখন শুধু চূড়ান্ত অনুমোদন ও টাকা ছাড়ের অপেক্ষা।
বর্তমানে রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত। তার মধ্যেই বিকাশ ভবন থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ ফাইল নবান্নে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এই ফাইলেই রয়েছে শিক্ষক, অধ্যাপক ও শিক্ষাকর্মীদের বকেয়া ডিএ সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ হিসেব।
কারা পাবেন এই বকেয়া DA?
জানা গিয়েছে, এই তালিকায় রয়েছেন স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকা, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং অন্যান্য শিক্ষাকর্মীরা। ইতিমধ্যেই সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের একাংশ ২০১৬ থেকে ২০১৯ সালের বকেয়া ডিএ-র প্রথম কিস্তি পেয়েছেন। তবে শিক্ষা ক্ষেত্রের বহু কর্মী এখনও সেই টাকা পাননি।
এই কারণেই আলাদাভাবে স্কুলশিক্ষা ও উচ্চশিক্ষা দফতর থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে কার কত বকেয়া রয়েছে, তার বিস্তারিত হিসেব নেওয়া হয়েছে। সেই সমস্ত তথ্য একত্র করে নবান্নে পাঠানো হয়েছে।
কবে মিলতে পারে টাকা?
এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—কবে অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকবে? প্রশাসনিক মহলের মতে, সরকার ফাইলটি খতিয়ে দেখে অনুমোদন দিলেই দ্রুত টাকা ছাড় করা হতে পারে। অনেকেই মনে করছেন, ভোটের আগেই এই অর্থ দেওয়া হতে পারে, যা স্বাভাবিকভাবেই বড় রাজনৈতিক প্রভাব ফেলতে পারে।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের প্রভাব
গত ফেব্রুয়ারি মাসে সুপ্রিম কোর্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ রায়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ দ্রুত মেটানোর নির্দেশ দেয়। এই রায়ের পর থেকেই রাজ্য সরকার চাপের মধ্যে ছিল।
২০০৮ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ডিএ নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে বর্তমানে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের মধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশ ডিএ-র পার্থক্য তৈরি হয়েছে। ফলে এই বকেয়া মেটানো নিয়ে কর্মীদের প্রত্যাশা অনেক বেশি।
সব মিলিয়ে, শিক্ষকদের বকেয়া ডিএ নিয়ে আশার আলো দেখা যাচ্ছে। ফাইল নবান্নে পৌঁছনো মানেই প্রক্রিয়া অনেকটাই এগিয়েছে। এখন শুধু সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষা। যদি সব ঠিকঠাক থাকে, তাহলে খুব শীঘ্রই শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের অ্যাকাউন্টে বকেয়া ডিএ জমা পড়তে পারে—যা দীর্ঘদিনের দাবির একটি বড় সুরাহা হতে চলেছে।










