রাজ্য সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ আপডেট এল পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফে। মহার্ঘ ভাতা (DA) নিয়ে অনিশ্চয়তার মাঝেই এবার ট্রেজারি ফান্ড ব্যবস্থাপনায় বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলল। অর্থ দফতরের নতুন নির্দেশে স্পষ্ট করা হয়েছে—নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে বরাদ্দ দেরি হলেও অগ্রিম বিল তোলার সুযোগ দেওয়া হবে, যাতে পরিষেবা ব্যাহত না হয়।
কী বলছে নতুন নির্দেশ?
সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী বরাদ্দ (allotment) ছাড়া ট্রেজারিতে কোনো বিল গ্রহণ করা হয় না। তবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ১ এপ্রিল থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত বিশেষ পরিস্থিতিতে এই নিয়মে আংশিক শিথিলতা আনা হয়েছে।
অর্থাৎ, যদি বরাদ্দ সময়মতো না পৌঁছায়, তাহলে নির্দিষ্ট কিছু খাতে অগ্রিম বিল তোলার অনুমতি দেওয়া হবে। এর ফলে বেতন, ভাতা বা জরুরি পরিষেবা বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা কমবে।
কোন কোন খাতে মিলবে সুবিধা?
সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী নিম্নলিখিত খাতগুলিতে অগ্রিম বিল তোলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে—
- বেতন ও মজুরি
- পেশাগত ফি
- ICDS সংক্রান্ত খরচ
- ইন্টার্ন ও ট্রেনি নার্সদের স্টাইপেন্ড
- অ্যাড-হক ডাক্তারদের বেতন
- হাসপাতালের ডায়েট, অক্সিজেন ও লিনেন খরচ
- অজ্ঞাত মৃতদেহের সৎকার ব্যয়
- স্বাধীনতা সংগ্রামীদের পেনশন
- মেডিক্যাল রিইম্বার্সমেন্ট
- অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের LTC/HTC বিল
এই তালিকা থেকে বোঝা যাচ্ছে, মূলত জরুরি পরিষেবা ও কর্মীদের আর্থিক স্বার্থ রক্ষাতেই এই সিদ্ধান্ত।
তবে থাকছে কড়াকড়িও
যদিও কিছু ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হয়েছে, তবুও সরকার স্পষ্ট করে দিয়েছে—বরাদ্দ না থাকলে কোনো DDO ইচ্ছেমতো অগ্রিম বিল জমা দিতে পারবেন না। বরাদ্দকারী ও সাব-বরাদ্দকারী কর্তৃপক্ষকে দ্রুত তহবিল ছাড় নিশ্চিত করতে হবে।
এছাড়া যেসব খাতে অগ্রিম বিল তোলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে, সেগুলিতে পরে তহবিলের পুনর্বিন্যাস (Re-appropriation) করা যাবে না। প্রশাসনিক দপ্তরগুলিকে প্রতি মাসে এই বিল তোলার বিষয়টি পর্যালোচনা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কেন এই সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ?
DA নিয়ে দীর্ঘদিনের অসন্তোষের মধ্যে এই নির্দেশ কিছুটা স্বস্তি এনে দিতে পারে। কারণ অনেক ক্ষেত্রেই বরাদ্দ দেরিতে পৌঁছানোর ফলে বেতন বা অন্যান্য পরিষেবায় সমস্যা তৈরি হচ্ছিল। নতুন নিয়মে অন্তত সেই সমস্যা অনেকটাই কমবে বলে মনে করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের এই নতুন নির্দেশ কর্মী ও পেনশনভোগীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। যদিও DA নিয়ে চূড়ান্ত ঘোষণা এখনও হয়নি, তবুও ফান্ড রিলিজের প্রক্রিয়া সহজ করার এই উদ্যোগ প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে আরও গতিশীল করবে বলেই আশা করা হচ্ছে।










