Trending NewsAppleNYT GamesCelebrity NewsWordle tipsBig 12 SoccerCelebrity BreakupsKeith UrbanUnited Nations Day

পাটক্ষেতে গুপ্তধনের খোঁজ! বাদুড়িয়ায় মাটি খুঁড়তেই বেরোল বস্তা ভর্তি টাকা, চাঞ্চল্য এলাকায়

Updated :  Wednesday, May 27, 2026 10:04 AM

উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়ায় একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে। গ্রেফতার হওয়া বাদুড়িয়া পৌরসভার চেয়ারম্যান দীপঙ্কর ভট্টাচার্যকে নিয়ে তল্লাশি চালাতে গিয়ে পাটক্ষেতের মাটি খুঁড়ে উদ্ধার হল বস্তা ও সুটকেস ভর্তি বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা। প্রাথমিকভাবে তদন্তকারীদের অনুমান, উদ্ধার হওয়া টাকার পরিমাণ কয়েক কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। ঘটনাকে ঘিরে গোটা এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার দুর্নীতির অভিযোগে বাদুড়িয়া পৌরসভার চেয়ারম্যান দীপঙ্কর ভট্টাচার্যকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর তাঁর একটি কম্পিউটার সেন্টারে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ৮০ লক্ষ টাকা নগদ উদ্ধার করে পুলিশ। তবে তদন্তকারীদের সন্দেহ ছিল, এর বাইরেও আরও বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি ও নগদ লুকিয়ে রাখা হয়েছে।

সেই সূত্র ধরেই বুধবার সকালে আবারও বাদুড়িয়ার বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি অভিযান শুরু হয়। ঠিক সেই সময় চেয়ারম্যানের বাড়ির পাশের একটি পাটক্ষেতে কাজ করতে গিয়ে কয়েকজন চাষির নজরে আসে মাটির নিচে চাপা দেওয়া কিছু সন্দেহজনক বস্তু। বিষয়টি বুঝতে পেরে আতঙ্কিত হয়ে তাঁরা দ্রুত থানায় খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ও তদন্তকারী আধিকারিকরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছন। সঙ্গে নিয়ে যাওয়া হয় গ্রেফতার হওয়া চেয়ারম্যান দীপঙ্কর ভট্টাচার্যকেও। এরপর তাঁর দেখানো নির্দিষ্ট জায়গায় কোদাল দিয়ে মাটি খোঁড়া শুরু হতেই একের পর এক বড় সুটকেস ও বস্তা বেরিয়ে আসে। সেই সুটকেসগুলির লক খুলতেই দেখা যায়, ভিতরে থরে থরে সাজানো রয়েছে ৫০০ টাকার বান্ডিল। বিপুল পরিমাণ নগদ দেখে হতবাক হয়ে যান উপস্থিত পুলিশ আধিকারিকরাও।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় উপচে পড়ে মানুষের ভিড়। বহু বাসিন্দা ক্ষোভ উগরে দিয়ে দাবি করেছেন, দীর্ঘদিন ধরেই পুরসভার বিভিন্ন পরিষেবা পেতে সাধারণ মানুষকে অতিরিক্ত টাকা দিতে হতো। স্থানীয়দের অভিযোগ, সার্টিফিকেট, নোটিশ কিংবা বিভিন্ন ফর্ম তুলতে গেলেও মোটা অঙ্কের ঘুষ দাবি করা হত। কাজের গুরুত্ব বুঝে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হতো বলে অভিযোগ। এক প্রবীণ বাসিন্দার কথায়, “সাধারণ মানুষকে নাজেহাল করে এই টাকা তোলা হয়েছে। এখন ধরা পড়ার ভয়ে মাটির নিচে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল।” এলাকায় আরও গুঞ্জন, নগদের পাশাপাশি মাটির নিচে সোনাও লুকিয়ে রাখা থাকতে পারে। যদিও এই বিষয়ে এখনও সরকারি ভাবে কিছু জানানো হয়নি। বর্তমানে উদ্ধার হওয়া টাকার সঠিক পরিমাণ গণনার কাজ চলছে। তদন্তকারীরা গোটা ঘটনার আর্থিক উৎস, সম্ভাব্য দুর্নীতির জাল এবং অন্য কারও যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলেও তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।