দেশের অর্থনীতির জন্য ফের উদ্বেগের খবর সামনে এল। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে খুচরো মূল্যস্ফীতির হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এর ফলে আগামী দিনে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খরচ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা। বিশেষ করে খাদ্যপণ্য ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এই চাপ বাড়িয়ে তুলছে।
মূল্যস্ফীতির হার কত বেড়েছে?
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে দেশের খুচরো মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩.৯৩ শতাংশে। বছরের শুরুতে জানুয়ারি মাসে এই হার ছিল মাত্র ২.৭৪ শতাংশ। অর্থাৎ কয়েক মাসের ব্যবধানে মূল্যস্ফীতির হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, যা গত ১৬ মাসের মধ্যে অন্যতম বড় বৃদ্ধি বলে মনে করা হচ্ছে।
খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ছে
সবচেয়ে বেশি উদ্বেগের কারণ খাদ্য মূল্যস্ফীতি।
- এপ্রিলে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ৪.২০%
- মে মাসে তা বেড়ে হয়েছে ৪.৭৮%
গ্রামাঞ্চলে এই হার আরও বেশি, প্রায় ৪.৮৫ শতাংশ। শহরাঞ্চলেও খাদ্যদ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি চোখে পড়ার মতো। ফলে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
জ্বালানির দামও বাড়িয়েছে চাপ
বিশেষজ্ঞদের মতে, পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বৃদ্ধি মূল্যস্ফীতির অন্যতম কারণ। সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানির খরচ বাড়ার ফলে পরিবহণ ব্যয় বেড়েছে। আর পরিবহণ খরচ বাড়লে তার প্রভাব পড়ে সব ধরনের পণ্যের দামেই। এই কারণেই আগামী কয়েক মাসে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
কোন পণ্যের দাম কমেছে?
গত বছরের তুলনায় কিছু পণ্যের দাম কমেছে।
এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য—
- আলু
- মটরশুঁটি
- জিরা
- মোটরসাইকেল ও স্কুটার
- মোটর গাড়ি
এই পণ্যগুলির ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে মূল্যস্ফীতি কম দেখা গিয়েছে।
কোন পণ্যের দাম বেশি বেড়েছে?
অন্যদিকে কয়েকটি পণ্যের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
এর মধ্যে রয়েছে—
- রুপোর গয়না
- সোনা
- টমেটো
- হিরে ও প্লাটিনামের গয়না
- কিসমিস
- আদা
বিশেষ করে মূল্যবান ধাতুর ক্ষেত্রে মূল্যবৃদ্ধি অনেক বেশি হয়েছে।
কোন রাজ্যে মূল্যস্ফীতির চাপ বেশি?
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, কয়েকটি রাজ্যে মূল্যস্ফীতির হার জাতীয় গড়ের তুলনায় বেশি।
তালিকায় রয়েছে—
- তেলেঙ্গানা
- তামিলনাড়ু
- অন্ধ্রপ্রদেশ
- কর্নাটক
- ওড়িশা
এই রাজ্যগুলিতে শিক্ষা ও মূল্যবান ধাতুর খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
সাধারণ মানুষের উপর কী প্রভাব পড়বে?
মূল্যস্ফীতি বাড়লে সাধারণত খাদ্যপণ্য, পরিবহণ, শিক্ষা এবং দৈনন্দিন ব্যবহার্য জিনিসের খরচ বৃদ্ধি পায়। ফলে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের পরিবারগুলির মাসিক বাজেটে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হতে পারে। আগামী কয়েক মাসে খাদ্য ও জ্বালানির দাম কোন দিকে যায়, তার উপরই মূল্যস্ফীতির ভবিষ্যৎ অনেকটা নির্ভর করবে।









