রাজ্য সরকারি কর্মীদের মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ সংক্রান্ত সমস্যা এখনও অমীমাংসিত। এর মধ্যেই স্মার্ট মিটার, যোগ দিবসে বাধ্যতামূলক উপস্থিতি এবং অন্যান্য প্রশাসনিক সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে নতুন করে ক্ষোভ প্রকাশ করলেন কর্মচারী সংগঠনের নেতারা। সম্প্রতি রাজ্য সরকারের সঙ্গে বৈঠকের পরও ডিএ নিয়ে কোনও দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে।
সরকারি কর্মচারীদের একাংশের দাবি, গত ১ জুন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে ডিএ-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। তবে বৈঠকের দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও বকেয়া ডিএ, পেনশনভোগীদের প্রাপ্য অর্থ কিংবা চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও স্পষ্ট ঘোষণা সামনে আসেনি।
কর্মচারী সংগঠনের নেতাদের অভিযোগ, ডিএ মামলায় সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিভ্রান্তি রয়েছে। কর্মীদের দাবি, বকেয়া ডিএ ও ডিআর সংক্রান্ত বিষয় দ্রুত নিষ্পত্তি করা হোক এবং কর্মরত ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের ন্যায্য প্রাপ্য মিটিয়ে দেওয়া হোক।
এদিকে সরকারের একাধিক নতুন সিদ্ধান্তও কর্মীদের মধ্যে প্রশ্ন তুলেছে। স্মার্ট মিটার প্রকল্প বাস্তবায়ন, বিভিন্ন নতুন সামাজিক প্রকল্পের ঘোষণা এবং প্রশাসনিক কর্মসূচির পাশাপাশি সরকারি কর্মীদের দীর্ঘদিনের দাবিগুলি এখনও ঝুলে রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কর্মচারী সংগঠনগুলির মতে, কর্মীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলিকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।
সপ্তম বেতন কমিশন নিয়েও কর্মীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। কমিশনের কাঠামো, সদস্য নিয়োগ, পরিকাঠামো এবং কার্যপদ্ধতি নিয়ে এখনও স্পষ্ট কোনও তথ্য প্রকাশ না হওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য প্রকল্প, পেনশন ব্যবস্থা এবং অন্যান্য সুবিধা নিয়েও দ্রুত সিদ্ধান্তের দাবি উঠেছে।
সরকারি কর্মীদের একাংশের বক্তব্য, নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর বহু বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের দাবি এখনও পূরণ হয়নি। ফলে ডিএ মামলার ভবিষ্যৎ, বকেয়া পাওনা এবং বেতন কাঠামো নিয়ে কর্মীদের মধ্যে জল্পনা ও উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে।
এখন সকলের নজর সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। বিশেষ করে আসন্ন বাজেট এবং প্রশাসনিক ঘোষণায় ডিএ ও কর্মচারীদের দাবিদাওয়া নিয়ে কোনও বড় সিদ্ধান্ত আসে কি না, সেটাই দেখার।










