রাজ্যে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পকে ঘিরে উৎসাহ ক্রমশ বাড়ছে। শুরুতে ১২ পাতার আবেদনপত্র দেখে অনেকেই উদ্বেগ প্রকাশ করলেও এখন পরিস্থিতি বদলেছে। কারণ, উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে আর্থিক সহায়তার টাকা পৌঁছতে শুরু করেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ১৬ দিনের মধ্যেই প্রায় ৯০ লক্ষ মহিলা এই প্রকল্পে আবেদন করেছেন। তবে শুধু মাসিক ৩০০০ টাকা পাওয়ার জন্যই কি এই বিশদ ফর্ম পূরণ করতে হচ্ছে? এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা দিয়েছেন রাজ্যের পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল।
কেন এত তথ্য চাওয়া হচ্ছে?
মন্ত্রী জানিয়েছেন, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের আবেদনপত্রে শুধুমাত্র এই প্রকল্পের জন্য নয়, ভবিষ্যতের বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধা দ্রুত ও সঠিকভাবে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে পরিবারের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
ফর্মে আবেদনকারীর পাশাপাশি পরিবারের অন্যান্য সদস্যদেরও তথ্য চাওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে—
- আধার কার্ডের তথ্য
- ভোটার কার্ডের তথ্য
- রেশন কার্ডের তথ্য
- স্বাস্থ্যবিমা সংক্রান্ত তথ্য
- পরিবারের সদস্য সংখ্যা
- পেশা ও আয়
- বাসস্থানের বিবরণ
সরকারের মতে, এই তথ্য ভবিষ্যতে বিভিন্ন সামাজিক ও কল্যাণমূলক প্রকল্প বাস্তবায়নে সহায়ক হবে।
কী বললেন অগ্নিমিত্রা পাল?
অগ্নিমিত্রা পাল জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে আরও একাধিক জনকল্যাণমূলক প্রকল্প চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। সেই কারণেই একটি সমন্বিত ডেটাবেস তৈরি করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ফর্ম পূরণে সমস্যা হলে সরকারি কর্মীরা সাহায্য করবেন। তবে আবেদনকারীদের সঠিক তথ্য প্রদান করতে হবে, যাতে প্রকৃত উপভোক্তাদের কাছে সরকারি সুবিধা পৌঁছে দেওয়া যায়।
তৈরি হচ্ছে বিশেষ ডেটাবেস
সরকারি সূত্রের দাবি, প্রথম ১৬ দিনে জমা পড়া প্রায় ৯০ লক্ষ আবেদনের মাধ্যমে প্রায় ৩ কোটি মানুষের তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে। এই তথ্যগুলি ‘ফ্যামিলি লেভেল ডেটা কালেকশন পোর্টাল’-এ সংরক্ষণ করা হচ্ছে। এর ফলে ভবিষ্যতে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের জন্য নতুন করে তথ্য সংগ্রহের প্রয়োজন কমবে এবং যোগ্য উপভোক্তাদের দ্রুত চিহ্নিত করা যাবে।
কতজন ইতিমধ্যেই টাকা পেয়েছেন?
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ধাপে ৫১ লক্ষেরও বেশি উপভোক্তা ইতিমধ্যে আর্থিক সহায়তার টাকা পেয়েছেন। বাকি আবেদনকারীদের তথ্য যাচাইয়ের কাজ শেষ হলে পর্যায়ক্রমে তাঁদের অ্যাকাউন্টেও টাকা পাঠানো হবে। ফলে স্পষ্ট, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের আবেদনপত্র শুধুমাত্র ৩০০০ টাকার প্রকল্পের জন্য নয়, ভবিষ্যতের আরও একাধিক সরকারি সুবিধার ভিত্তি হিসেবেও কাজ করতে পারে।









