জাতিগত শংসাপত্র বা কাস্ট সার্টিফিকেট নিয়ে বড় পদক্ষেপের পথে রাজ্য প্রশাসন। অনগ্রসর শ্রেণী কল্যাণ দফতরের নির্দেশিকা অনুযায়ী, গত কয়েক বছরে ইস্যু হওয়া বিপুল সংখ্যক কাস্ট সার্টিফিকেট পুনরায় যাচাই করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, মোট প্রায় ১ কোটি ৬৯ লক্ষ সার্টিফিকেট এই যাচাই প্রক্রিয়ার আওতায় আসতে পারে।
কোন কোন সার্টিফিকেট যাচাই হবে?
এই বিশেষ যাচাই অভিযানের আওতায় রয়েছে—
- SC (তফসিলি জাতি) সার্টিফিকেট
- ST (তফসিলি জনজাতি) সার্টিফিকেট
- OBC (অনগ্রসর শ্রেণি) সার্টিফিকেট
প্রশাসনের দাবি, সমস্ত নথি নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই যাচাই করা হবে।
কীভাবে হবে যাচাই?
সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী যাচাই প্রক্রিয়ার কয়েকটি ধাপ রয়েছে—
- মাঠ পর্যায়ে তদন্ত
- জমা দেওয়া নথিপত্র পরীক্ষা
- প্রশাসনিক অনুমোদন
- ডিজিটাল পোর্টালে রিপোর্ট আপলোড
প্রতিটি পর্যায়ের তথ্য নির্দিষ্ট পোর্টালে নথিভুক্ত করা হবে।
বাড়ি বাড়ি গিয়ে তদন্ত
জেলা প্রশাসন, মহকুমা প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিশেষ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রয়োজনে—
- আবেদনকারীর ঠিকানায় গিয়ে তথ্য যাচাই
- প্রয়োজনীয় নথির সত্যতা পরীক্ষা
- পারিবারিক ও সামাজিক তথ্য পর্যালোচনা
করে রিপোর্ট জমা দিতে হবে।
ভুয়ো প্রমাণিত হলে কী হবে?
নির্দেশিকা অনুযায়ী, কোনও সার্টিফিকেট যদি যাচাইয়ে ভুয়ো বা বেআইনি বলে প্রমাণিত হয়, তাহলে তা বাতিল করার ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। এছাড়াও প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট আইনি পদক্ষেপও গ্রহণ করা হতে পারে বলে প্রশাসনিক সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে।
ডিজিটাল পোর্টালে নজরদারি
যাচাই প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ করতে একটি বিশেষ অনলাইন ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।
সেখানে—
- ব্লক স্তরের আধিকারিক
- মহকুমা স্তরের আধিকারিক
- জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধিরা
নিজস্ব লগইনের মাধ্যমে রিপোর্ট আপলোড করতে পারবেন।
কেন নেওয়া হচ্ছে এই উদ্যোগ?
সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রকৃত সুবিধাভোগীদের কাছে সংরক্ষণ ও সরকারি সুবিধা পৌঁছে দেওয়া নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। একইসঙ্গে ভুয়ো নথির মাধ্যমে কেউ যাতে সরকারি সুযোগ-সুবিধা না পায়, সেদিকেও নজর দেওয়া হচ্ছে।
কী প্রভাব পড়তে পারে?
এই বৃহৎ যাচাই প্রক্রিয়ার ফলে ভবিষ্যতে জাতিগত শংসাপত্র সংক্রান্ত প্রশাসনিক তথ্যভান্ডার আরও নির্ভুল হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে কোনও শংসাপত্র বাতিল বা বৈধ ঘোষণা করার ক্ষেত্রে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক যাচাই ও সরকারি নির্দেশিকার ভিত্তিতেই নেওয়া হবে। রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ইতিমধ্যেই এই যাচাই প্রক্রিয়ার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর।









