পশ্চিমবঙ্গে স্মার্ট মিটার বসানো নিয়ে নতুন বিতর্কের সূচনা হয়েছে। রাজ্য সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী সরকারি কর্মচারী, রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার কর্মী এবং সরকারি কোষাগার থেকে বেতন বা ভাতা প্রাপ্ত ব্যক্তিদের বাড়িতে বাধ্যতামূলকভাবে স্মার্ট মিটার বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কিন্তু এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে এবার কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে একাধিক কর্মচারী সংগঠন ও গ্রাহক সংগঠন।
সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছিল যে বিদ্যুৎ বণ্টন ব্যবস্থার আর্থিক ক্ষতি কমানো এবং বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থাগুলির আর্থিক অবস্থার উন্নতির লক্ষ্যে ধাপে ধাপে স্মার্ট মিটার বসানো হবে। ইতিমধ্যেই রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় এই প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে বেশ কিছু গ্রাহক পরিষেবা কেন্দ্রের আওতায় স্মার্ট মিটার স্থাপনের কাজ এগিয়ে চলছে বলে জানা গেছে।
তবে এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে কর্মচারী সংগঠনগুলির মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। তাদের অভিযোগ, শুধুমাত্র সরকারি কর্মচারীদের ক্ষেত্রে স্মার্ট মিটার বাধ্যতামূলক করা বৈষম্যমূলক এবং আইনসঙ্গত নয়। সেই কারণেই বিষয়টি নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আবেদনকারীদের দাবি, স্মার্ট মিটার ব্যবহার সম্পূর্ণভাবে গ্রাহকের পছন্দ ও সম্মতির ভিত্তিতে হওয়া উচিত। কোনও নির্দিষ্ট শ্রেণির মানুষের উপর তা বাধ্যতামূলকভাবে চাপিয়ে দেওয়া উচিত নয়। পাশাপাশি কিছু গ্রাহকের অভিযোগ, স্মার্ট মিটার চালুর পর বিদ্যুতের বিল বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। যদিও এই দাবিগুলির সত্যতা নিয়ে এখনও কোনও সরকারি বা বিচারিক সিদ্ধান্ত সামনে আসেনি।
অন্যদিকে রাজ্য সরকারের বক্তব্য, স্মার্ট মিটার প্রযুক্তি বিদ্যুৎ ব্যবহারের হিসাবকে আরও স্বচ্ছ ও নির্ভুল করবে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ চুরি রোধ, বিল সংগ্রহের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থার আর্থিক ক্ষতি কমাতেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
বর্তমানে বিষয়টি আদালতের বিবেচনাধীন। ফলে হাইকোর্টে মামলার শুনানি এবং ভবিষ্যতের নির্দেশনার দিকেই এখন নজর রয়েছে সংশ্লিষ্ট সকলের। আদালতের রায়ের পরই স্পষ্ট হবে স্মার্ট মিটার সংক্রান্ত এই বিতর্ক কোন দিকে এগোবে।










