মার্কিন ডলারের তুলনায় ভারতীয় মুদ্রার অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিল ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক (RBI)। দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডার বৃদ্ধি এবং বিদেশি মুদ্রার প্রবাহ বাড়ানোর লক্ষ্যে এবার ব্যাংকগুলিকে বিদেশি তহবিল সংগ্রহে উৎসাহিত করা হচ্ছে। সম্প্রতি RBI-এর ডেপুটি গভর্নর দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করে FCNR(B) ডিপোজিট বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছেন বলে জানা গিয়েছে।
কেন এই পদক্ষেপ?
সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা, পশ্চিম এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং বিদেশি বিনিয়োগের ওঠানামার কারণে ভারতীয় টাকার ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। এর ফলে বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডার বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা আরও বেড়েছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, দেশে ডলারের প্রবাহ বাড়লে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে ভারতীয় রুপির অবস্থানও আরও মজবুত হতে পারে।
FCNR(B) ডিপোজিট কী?
FCNR(B) বা Foreign Currency Non-Resident Deposit হলো এমন একটি বিশেষ আমানত প্রকল্প, যেখানে বিদেশে বসবাসকারী ভারতীয়রা (NRI) ডলারসহ বিভিন্ন বিদেশি মুদ্রায় অর্থ জমা রাখতে পারেন।
এই স্কিমের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হলো—
- বিদেশি মুদ্রাতেই আমানত রাখা যায়।
- নির্দিষ্ট মেয়াদে আকর্ষণীয় সুদের সুবিধা পাওয়া যায়।
- মুদ্রা বিনিময় ঝুঁকি তুলনামূলক কম থাকে।
- ব্যাংকগুলির জন্য বিদেশি তহবিল সংগ্রহ সহজ হয়।
বর্তমানে বিভিন্ন ব্যাংক ৩ থেকে ৫ বছরের FCNR(B) আমানতে প্রায় ৫.৫% থেকে ৭.১% পর্যন্ত সুদ দিচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।
RBI-এর অতিরিক্ত সুবিধা
এই প্রকল্পকে আরও আকর্ষণীয় করতে RBI কিছু ক্ষেত্রে হেজিং খরচের চাপ কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে। এর ফলে ব্যাংকগুলির জন্য বিদেশি মুদ্রা সংগ্রহ করা তুলনামূলক সহজ হবে। এছাড়াও FCNR(B) ডিপোজিটের ভিত্তিতে ব্যাংকগুলিকে আরও সহজে গ্যারান্টি ও লেটার অফ ক্রেডিট ইস্যুর সুযোগ দেওয়া হতে পারে, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যকে উৎসাহিত করবে।
কত ডলার আসতে পারে ভারতে?
অর্থনৈতিক মহলের একাংশের অনুমান, এই উদ্যোগ সফল হলে আগামী কয়েক বছরে বিপুল পরিমাণ বিদেশি মুদ্রা দেশে প্রবেশ করতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে—
- প্রায় ৩০ থেকে ৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পর্যন্ত নতুন তহবিল আসতে পারে।
- কিছু অনুমান অনুযায়ী এই অঙ্ক ৭০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্তও পৌঁছাতে পারে।
যদি তা বাস্তবে ঘটে, তাহলে ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডার আরও শক্তিশালী হবে এবং ভারতীয় রুপির উপর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
কী হতে পারে প্রভাব?
বিদেশি মুদ্রার প্রবাহ বাড়লে—
- বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী হবে।
- আন্তর্জাতিক বাজারে রুপির স্থিতিশীলতা বাড়তে পারে।
- আমদানি ব্যয় নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে।
- আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে সুবিধা মিলতে পারে।
তবে রুপির ভবিষ্যৎ মূল্য শুধুমাত্র এই উদ্যোগের উপর নির্ভর করবে না। আন্তর্জাতিক অর্থনীতি, জ্বালানির দাম, বৈশ্বিক বিনিয়োগ প্রবাহ এবং ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।












